kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

শিবপুরে টিলা কেটে সাবাড়

নরসিংদী প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিবপুরে টিলা কেটে সাবাড়

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় দড়িপুরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ভেকু দিয়ে কাটা হচ্ছে টিলা ছবি : কালের কণ্ঠ

নরসিংদীর শিবপুরে নির্বিচারে টিলা কাটছে একটি চক্র। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে মাঝেমধ্যে দু-একজনকে আটক করা হলেও থামছে না টিলা কাটা। এরই মধ্যে এলাকার বেশির ভাগ টিলা কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করেছে চক্রের সদস্যরা। 

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিবপুর উপজেলায় প্রায় এক হাজারের বেশি টিলা রয়েছে। উপজেলার বাঘাব, জয়নগর, চক্রধা ও যোশর—এই চারটি ইউনিয়নে ছোট-বড় এসব টিলার অবস্থান। এগুলোর বেশির ভাগের উচ্চতা ২৫-৩৫ ফুটের মধ্যে। এর মধ্যে গত তিন বছরে শুধু জয়নগর ইউনিয়নেই কাটা হয়েছে ১০-১২টি টিলা। খননযন্ত্রের (ভেকু) সাহায্যে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত কাটা হচ্ছে এগুলো। আবার কোথাও কোথাও দিনের বেলাও সমানতালে চলছে টিলা কাটা। আর এসব টিলা কেটে লাল মাটি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন সিরামিক কারখানায়। পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে নিচু এলাকা ভরাটের কাজে।

জানা গেছে, অতিরিক্ত টাকার লোভে স্থানীয় লোকজন ব্যক্তিমালিকানাধীন টিলাও কাটতে শুরু করেছে। একটা টিলায় কয়েক হাজার ট্রাক লাল মাটি পাওয়া যায়। ভেকু ও গাড়ি ভাড়া বাদে ট্রাকপ্রতি লাল মাটি বিক্রি হয় ৭০০-৮০০ টাকায়। আর ড্রাম ট্রাকপ্রতি তিন হাজার ৫০০ টাকায়। টিলার মালিক পান ট্রাকপ্রতি এক হাজার টাকা। একটি টিলা কাটা হলে পাশেরটিও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিবপুর-কামরাব সড়কে দড়িপুরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ভেকু দিয়ে টিলা কাটছে কয়েকজন। এই টিলার মালিক স্থানীয় এসবি গ্রুপ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক বশির আহম্মেদের। তিনি টিলা কেটে নিচু জায়গা ভরাট করে সমতল ভূমি তৈরি করছেন। এ ব্যাপারে বশির আহম্মেদ বলেন, ‘আমার টিলা, আমার জমি। তাই আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কেটে সমান করছি। তাতে সমস্যা কোথায়?’

টিলা কাটার ঘটনায় কিছুদিন আগে জয়নগর ইউনিয়নের দুটি আলাদা স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে উপজেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কেরানিনগর এলাকার হোসেন আলীর ছেলে ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ (৩৫), সাভার উপজেলার অফিস বাজার এলাকার ফজল মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়া (৩৫) ও নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ফুলবদি এলাকার আজাহার প্রামাণিকের ছেলে মিলন মিয়া (৩৬)।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন কাজে পাহাড়-টিলা কাটার কোনো সুযোগ নেই। এটি অবশ্যই দণ্ডণীয়  অপরাধ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, টিলা কাটার খবর পেলে অভিযান চালানো হয়। কিছুদিন আগে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা