kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস আজ

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অছিমের সংসার চলে গান গেয়ে

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অছিমের সংসার চলে গান গেয়ে

গান গাইছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অছিম। ছবি : কালের কণ্ঠ

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অছিম উদ্দিন। সামনে যা পান, তা-ই বাদ্যযন্ত্র করে তুলতে পারেন। মানুষের দয়া-দাক্ষিণ্য বা কারো কাছে হাত পেতে নয়, অছিমের সংসার চলে গান গেয়ে। তিনি বাজাতে পারেন প্রায় ১০ ধরনের বাদ্যযন্ত্র।

গাইতে পারেন লালনগীতি, আধুনিক, কাওয়ালি, রবীন্দ্রসংগীতসহ বেশ কয়েক ধরনের গান। এরই মধ্যে নিজের সাধনাকে কাজে লাগিয়ে একটি সংগীত স্কুল গড়ে তুলেছেন।

অছিমের বাবা নজিম উদ্দিন, মা সখিনা বেগম। ১৯৬৮ সালে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী জোতবানী গ্রামে জন্ম অছিমের। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় তিনি। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে অভাব-অনটনের সংসারে অনাদরেই বেড়ে ওঠেন অছিম। স্কুলে পড়ারও সুযোগ হয়নি তাঁর।

অছিমের বয়স তখন ১২ ছুঁই ছুঁই। অনাহার ও অনাদর যখন তাঁর নিত্যসঙ্গী, তখন রংপুরের কাউনিয়ার তিস্তা নদীর ভাঙনে ঘরহারা বাউলশিল্পী আব্দুল হান্নান জীবিকার তাগিদে চলে আসেন পাশের করমজি গ্রামে। পরিচয়ের পর ভালোবেসে কিশোর অছিমের হাতে দোতারা তুলে দিয়ে বলেন, ‘এর চিকন তারে গান তুলতে পারলে জীবনে ভাতের অভাব হবে না।’ সেই থেকে গানের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়। পরে বিরামপুরের উদয়ন সংগীত ক্লাবে গোপাল চন্দ্র রায়ের কাছে বিনা বেতনে গানের তালিম নেন। এরপর দিনে দিনে শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকেন তিনি।

২০১০ সালে স্থানীয় কাটলাবাজারে একটি সংগীত স্কুল খোলেন অছিম। কিন্তু পরে শিক্ষার্থী ও অর্থাভাবে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে পাশের জেলা রাজশাহীতে একটি সংগীত স্কুল গড়ে তোলেন। নাম দেন ‘আমরা কজন শিল্পীগোষ্ঠী’। মাসে দুই দিন সেখানে ক্লাস নেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে কোথাও না কোথাও গান গাওয়ার ডাক পান অছিম। এ থেকে যে আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চলে। সংসারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে।

অছিম জানান, ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তিনি লিখতে ও পড়তে না পারলেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, রেডিও-টেলিভিশনে শুনে শুনেই ৩০০-এর বেশি গান মুখস্থ করেছেন। লোকসংগীত গাইতে বেশি পছন্দ অছিমের। দেশের প্রায় ৪০টি জেলায় তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে লালন শাহ, লাল মিয়া বয়াতি, মাখন দেওয়ান, মুজিব পরদেশী ও রশিদ সরকারের গান গেয়ে শ্রোতাদের আনন্দ দিয়েছেন। শিল্পী অছিম প্রসঙ্গে আলাপকালে জোতবানী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গাফফার বাবলু বলেন, ‘অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা অছিম একজন গানের শিল্পী হিসেবে এলাকার মানুষের মন জয় করেছে। আমাদেরও আশা, একদিন আমাদের অছিম রেডিও-টিভিতে গান গেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেবে।’

রেডিও-টিভিতে গান গাওয়ার ব্যাপারে দেশের অনেক শিল্পী, সুরকার ও গীতিকারের সঙ্গে কথা বলেছেন অছিম। অনেকেই সেই সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও আজও তা পূরণ হয়নি। সেই আশা একদিন পূরণ হবে বলে তাঁর বিশ্বাস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা