kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ইটভাটায় পরিবেশ নাশ

অবৈধ ভাটায় যেতে সরকারি সেতু

মাসুদ রানা, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবৈধ ভাটায় যেতে সরকারি সেতু

পাবনার ফরিদপুরে ইটভাটায় যাতায়াতের জন্য ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বেড়হাউলিয়া গ্রামে একটি ইটভাটায় যাতায়াতের জন্য ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস প্রায় দুই বছর আগে ভাটার পাশের একটি খালের ওপর ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সেতু নির্মাণ করে। ইটভাটার নাম এএইচএস। এর মালিক বেড়হাউলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল আলীম ও সাইফুল ইসলাম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটায় যাতায়াতের জন্য খালের মধ্য দিয়ে কাঁচা রাস্তা থাকলেও মালিকপক্ষ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে সেতুটি নির্মাণ করে নেন। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছায় নয়, রাজনৈতিক চাপে সেতুটি নির্মাণ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বড়াল নদীর পার ঘেঁষে উপজেলার বেড়াউলিয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে একসময় রবিশস্যসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ হতো। এক যুগ আগে এলাকায় গরুর খামার বেড়ে যাওয়ায় এসব জমিতে বিভিন্ন জাতের ঘাসের আবাদ শুরু করেন কৃষকরা। এসব জমি সাধারণ বন্যায় প্লাবিত হয় না। তাই সব মৌসুমে এ অঞ্চলে গো-খাদ্যের চাহিদা পূরণে জমিগুলো ছিল খামারিদের অতীব প্রয়োজনের। কিন্তু বছরচারেক আগে ইটভাটা নির্মাণ করতে এসব জমির ওপর নজর পড়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর। এক বছরের মধ্যেই কিনে ও লিজ নিয়ে এলাকার ২৫ বিঘা জমি নিজেদের আয়ত্তে নেন ব্যবসায়ীরা। পরে ২০১৬ সালে এই ২৫ বিঘা ফসলি জমি নষ্ট করে ভাটা নির্মাণ করেন তাঁরা।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এই ইটভাটা নির্মাণ করা হয়। এমনকি আজ পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই ৫৫ ফুট চিমনি দিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ চলছে। এরপর আশপাশের আরো ১০ বিঘা জমি ভাটার অন্তর্ভুক্ত করেন মালিকরা।

আরো জানা যায়, ভাটা নির্মাণের পর বছরখানেক মালপত্র পরিবহন করা হতো নৌপথে। ভাটার দক্ষিণ পাশে ওয়াপদা বাঁধ থাকলেও একটি খালের জন্য কোনো যানবাহন সরাসরি ইটভাটায় যাতায়াত করতে পারত না। তবে খালের মধ্যে একটি কাঁচা রাস্তা থাকায় শ্রমিক দিয়ে মালপত্র পরিবহন করা যেত। কিন্তু সেটাতে খরচ অনেক বেশি হতো। তাই ওই খালের ওপর সেতু নির্মাণ করতে ভাটা মালিকরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ছারোয়ার হোসেনকে দিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তার কাছে সেতু নির্মাণের আবেদন করান।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তারা প্রথমে নির্মাণস্থল পরিদর্শন করে সেতু নির্মাণে আপত্তি জানান। তবে পরে তাঁদের ম্যানেজ করেন ভাটা মালিকরা। এমনকি ওই সেতু নির্মাণে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ব্যবস্থাও করেন মালিকরা। পরে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৪ লাখ চার হাজার ৬৫০ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্প পাস হয়। অর্থবছরের শেষে ২০১৭ সালের জুন মাসে মোস্তাক ট্রেডার্স সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে। নির্মাণ শেষে সেতুর দুই পাশে খালের মধ্যে নিজ খরচেই রাস্তা নির্মাণ করে নেন ভাটা মালিকরা।

ইটভাটার মালিক আব্দুল আলীম দাবি করে বলেন, ‘সেতু নির্মাণের জন্য আমরা কোথাও কোনো তদবির করিনি।’

ফরিদপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন বলেন, সেতুটি বাস্তবায়ন হয় ইটভাটা নির্মাণের পরে। এ কারণে অনেকেই সেতু নিয়ে অভিযোগ তুলছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন সময়ে স্থানের গুরুত্ব বিবেচনা করে সেতু নির্মাণে আপত্তি জানিয়েছিল অফিস। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার ও রাজনৈতিক চাপের কারণেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহাম্মদ আলী বলেন, যেহেতু সেতুটি নির্মাণ হয়েই গেছে, সেহেতু এখন আর কিছু করার নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা