kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

রানীনগরে আবাদি জমি থেকে মাটি কাটার ধুম!

রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রানীনগরে আবাদি জমি থেকে মাটি কাটার ধুম!

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার প্রায় ১০টি ইটভাটার মালিক ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কেটে ভাটায় নিয়ে যাচ্ছেন। এই মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরি করা হবে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার প্রায় ১০টি ইটভাটার মালিকরা ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করছেন। যে যেখান থেকে পারছেন এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে তিন ফসলি জমি ফসল উৎপাদনের ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলছে। ইটভাটা মালিকদের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রানীনগর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় সাড়ে ২১ হাজার হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে। শ্রেণিভেদে প্রায় সব জমিতেই সারা বছর কোনো না কোনো ফসলের চাষ করা হয়। কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্যের যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় স্থানীয় কিছু কৃষক ভাটা মালিকদের লোভনীয় অফারে পড়ে প্রতি গাড়ি মাটি পাঁচ শ থেকে ছয় শ টাকায় বিক্রি করে দেন। এক ফুট গর্ত করে তাতে প্রতি বিঘা থেকে প্রায় ১৮ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন দুই শতাধিক ট্রাক্টর, মিনি ট্রাক মাটি কেটে ভাটায় পৌঁছে দিচ্ছে। উপজেলার আতাইকুলা ২ নম্বর স্লুইসগেট, কাশিমপুর, মিরাট, ধনপাড়া, নগর বালুর ঠিকি, রামরায়পুর, মণ্ডলেরপুল, খট্টেশ্বর হাদিপাড়া এলাকায় নিয়মিত এভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। যে কারণে আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রায় চার শ হেক্টর জমিতে চাষ কম হবে বলে মনে করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কেটে গর্ত করার ফলে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়। উর্বরা শক্তি কমে যাওয়ায় ওই জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। নইলে মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-মামুন জানান, ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কোনো অভিযোগ পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা