kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

বিএমডিএর ইডির অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

পদায়ন হলেও যোগদান করতে পারছেন না নতুন ইডি

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজশাহীর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রধান ভবনে অভিযানের পর এবার  মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক (ইডি) আব্দুর রশীদের গড়ে তোলা সম্পদ অনুসন্ধানের পাশাপাশি অভিযোগসংশ্লিষ্ট কাগজপত্র  জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে বিএমডিএর একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ইডি আব্দুর রশীদকে ভারপ্রাপ্ত থেকে সরিয়ে তাঁর স্থলে গত ১৬ অক্টোবর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে শ্যাম কিশোর রায়কে পদায়ন করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে পদায়ন করা হলেও গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শ্যাম কিশোর রায়কে মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, ভারপ্রাপ্ত ইডি আব্দুর রশীদের প্রত্যক্ষ প্রভাবে তিনবার পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দিয়ে কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু এর আগে দুজনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এবারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে নতুন ইডিকে আদৌ দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না।

বিএমডিএ সূত্র জানায়, সম্প্রতি সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ করা হয় দুদকে। পাশাপাশি উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থ লোপাট, ৭৩ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেতনের অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনসহ নানা অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে কালের কণ্ঠে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ভবনে অভিযান চালায় দুদক রাজশাহীর একটি দল। ওই দিন জব্দ করা হয় বেশ কিছু নথিপত্র। সেই সঙ্গে আরো কিছু নথিপত্র চেয়ে পাঠানো হয়। নথিপত্রগুলো হাতে পাওয়ার পর এরই মধ্যে সেগুলো যাচাই-বাছাই শুরু করেছে দুদক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক রাজশাহী কার্যালয়ের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালকসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনিয়ম-দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগের অনুসন্ধানে আমরা কাজ শুরু করেছি।’

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, সংস্থাটির বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম তদন্তে গত বুধবার দুদকের একটি দল নওগাঁয় অভিযান চালায়। এ সময় খাল খননের নামে অনিয়ম, নির্বাহী পরিচালকের অবৈধ সম্পদ, গোদাগাড়ী জোন অফিসে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ৭৩ কর্মকর্তার অতিরিক্ত বেতন উত্তোলন, রাস্তা পাকাকরণের নামে অর্থ তছরুপসহ সহকারী কোষাধ্যক্ষ রাকিব হোসেন ও খাবিরুদ্দিনের নিয়োগে অনিয়ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, চলতি বছর নওগাঁয় বিলমনসুর, চকপাকুড়িয়া ও পলাশবাড়ী খনন করা হয়। এই তিনটি খালের বিপরীতে ছয়টি গ্রুপে প্রায় ৯ কোটি টাকা খরচ করা হয়। এটি করতে গিয়ে ঠিকাদারদের পরবর্তী সময়ে নতুন করে সাত থেকে ১৬ লাখ টাকা করে অতিরিক্ত হারে অর্থ দেওয়া হয়। বর্ধিত কাজ দেখিয়ে এই টাকা তছরুপ করা হয়। এভাবে আরো প্রায় এক কোটি টাকা তছরুপ করা হয়। তা ছাড়া বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশীদ প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী নগরীর উপশহরের এক নম্বর সেক্টরে একটি বাড়ি, তেরখাদিয়া এলাকায় একটি বাড়ি ও নগরীর নাহার স্কুল এলাকায় ১০ কাঠার একটি প্লট। এর বাইরেও তাঁর সম্পদ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছে দুদক।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অডিট আপত্তি, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি প্রকৌশলী ভবনে প্রকৌশলী না থাকা, পিপিআর অমান্য করে খণ্ড খণ্ড আকারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতি সাধন, গোদাগাড়ীতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার হিসাব জালিয়াতি, চলমান প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি পরিপত্র অমান্য করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল প্রদান ও পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহার—এমন সাতটি সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।

তবে ভারপ্রাপ্ত ইডি আব্দুর রশীদ দাবি করেন, ‘তারা যেসব তথ্য চেয়েছে সেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন করে তারা অনুসন্ধান করছে বলে শুনেছি। তারা তাদের কাজ করছে। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। তবে আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। আমার কোনো অবৈধ সম্পদও নেই।’

বিএমডিএর নতুন ইডি শ্যাম কিশোর রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দায়িত্ব এখনো বুঝে পাইনি। মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ায় রাজশাহী এসে বসে আছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা