kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

মাগুরায় দুদকের গণশুনানি

ভুক্তভোগীদের সামনে কাঠগড়ায় অভিযুক্তরা

মাগুরা প্রতিনিধি   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক জয়ন্ত কুমার কুন্ড ও বিকাশ শিকদার হাসপাতালে রোগী গেলে তাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সনোপ্লাস ও গ্রিন ভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বলেন। অপর চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম ১০ হাজার টাকা নিয়ে হাসপাতালেই ভুল অস্ত্রোপচার করায় শহরের ভায়না চোপদার পাড়ার সোহেল এখন পঙ্গু। একই হাসপাতালের রেকর্ডকিপার গৌতম কুমার সরকার হাসপাতালের ওষুধ কালোবাজারি করে বাড়িসহ কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া এই হাসপাতালে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহসহ ওষুধ কেনায় দুর্নীতি হয়েছে।

মাগুরা সদর উপজেলা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সমন্বিত যশোর অঞ্চল ও জেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটি আয়োজিত গণশুনানিতে ভুক্তভোগীরাই তুলে ধরলেন এসব অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে উঠে আসে বিভিন্ন দপ্তরের দুর্নীতির চিত্রও। তাদের অভিযোগ, জেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মোহন লাল রায় খোকন ঠাকুর সাবরেজিস্ট্রারদের যোগসাজশে দলিলের শ্রেণি বদল ও অন্যান্য দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া জেলা খাদ্য অফিস থেকে জেলা কারাগারে যে চাল-গম দেওয়া হয়েছে, তা পচা ও নিম্নমানের। কৃষকদের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ না করে উেকাচের বিনিময়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। অবৈধ অর্থে মাগুরা জেলা খাদ্য অফিসের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মইনুল হোসেন তিনটি বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ জমির মালিক হয়েছেন। বিআরটিএ অফিসের দালাল গুরুদাস দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছেন। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসায়।

অভিযোগ খণ্ডন করতে গণশুনানিতে উপস্থিত হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. স্বপন কুমার কুন্ড, জেলা খাদ্য অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মইনুল হোসেন, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মাহাফুজুর রহমানসহ অন্যদের মঞ্চে ডাকা হয়।

তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সদর হাসপাতালের রেকর্ডকিপার গৌতম কুমার, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মোহন লাল রায় খোকন ঠাকুর ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত দেয় দুদক। বাকিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের মাধ্যমে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

মন্তব্য