kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

মণিরামপুর

অর্ধশত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান

মণিরামপুর (যাশোর) প্রতিনিধি   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরের মণিরামপুরে অন্তত অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাঠদান চলছে। এ ছাড়া ভবন না থাকায় প্রায় ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা মানবেতর পরিবেশে লেখাপড়া করছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ২৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৪৩টি বিদ্যালয়ের ভবন অতি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকির মধ্যে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। কোথাও কোথাও অভিভাবকদের চাপের মুখে বাধ্য হয়ে স্কুল চত্বরে অস্থায়ী খুপরিঘরে, কোথাওবা শামিয়ানা টানিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার পাড়িয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা স্কুলের মূল ভবন ছেড়ে স্কুল চত্বরে অস্থায়ীভাবে বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি একটি খুপরিঘরে ক্লাস করছে। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, ‘স্কুল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। কয়েক মাস আগে ছাদের বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তরা খসে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তা ছাড়া অভিভাবকরাও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করতে দিতে চান না। তাই এখানে ক্লাস নিচ্ছি।’ এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অর্ধেন্দু কুমার দাস বলেন, ‘১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মাণ করা হয়। অল্প দিনেই ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন জানিয়েছি।’

সরেজমিন উপজেলার নেহালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলটির অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই খারাপ। এটি যে একটি বিদ্যালয়, অনেকে দেখে তা মনেই করবে না। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী লিতুনজিরা খাতুন বলে, ‘বৃষ্টি এলে স্কুলঘরের চালা দিয়ে পানি পড়ে। গরমের সময় ক্লাসরুমে থাকতে পারি না, তাই গাছতলায় ক্লাস নেওয়া হয়।’ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদল মণ্ডল বলেন, ‘ভবনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছি।’

এভাবেই অতি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে উপজেলার শৈলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝাঁপা দক্ষিণ, মথুরাপুর, জালঝাড়া, পাতন-জুড়ানপুর, ইত্যা, বড়চেতলা, হয়াতপুর, লেবুগাতী, উত্তর লাউড়ী, বালিয়াডাঙ্গাখানপুর, সৈয়দমাহমুদপুর, গোপালপুর, গালদা, মুড়াগাছা, কাশিমপুর, স্মরণপুর, দিঘীরপাড়, শাহাপুর, বাকোশপোল, নাগোরঘোপ, দুর্গাপুর, পাড়ালা, মাঝি-লাউড়ী, বসন্তপুর, আমিনপুর, হুমাতলা, কোনাকোলা, সমসকাটি, লাউড়ী, নেংগুড়াহাট, দেলুয়াবাটি, বলিয়ানপুর, লক্ষণপুর, উত্তরপাড়া, জয়পুর, বাটবিলা, কুচলিয়া, শ্রীপুর ও মণিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া উপজেলার প্রায় ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো ভবন নেই। ফলে ওই সব বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে এক মানবেতর পরিবেশে। যেকোনো সময়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেহেলী ফেরদৌস বলেন, ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনগুলোর তালিকা করে উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত এসব ভবনগুলো সংস্কার ও পুনর্নিমাণ হবে। এ ছাড়া যেসব বিদ্যালয়ে ভবন নেই তার তালিকাও কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে।’

মন্তব্য