kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রলীগে পদ পেতে কোন্দল

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাত্রলীগে পদ পেতে কোন্দল

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ২০১৬ সালে এক বছরের জন্য অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। নতুন কমিটি না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নতুন কমিটিতে পদ পেতে কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছে অনেকে। এ নিয়ে প্রায়ই ঘটছে হাতাহাতি ও মারামারি।

কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মো. সবুজ কাজী, সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল, সহসভাপতি হিসেবে আনোয়ারুল হক ও এস এম আনিসুজ্জামান জনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নুর এ আলম তপন ও মামুন আল মনসুর এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ফয়সাল আহমেদ সোহান ও শেখ মাহমুদুর রহমান ছিলেন। ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর আংশিক কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের কল্যাণে পড়ালেখা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, বাকসু নির্বাচন, ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নয়ন, মাদকমুক্ত, নিরাপত্তাসহ ২১ দফা দাবি জানায়। পরবর্তী সময় সেগুলো নিয়ে আর কাজ করতে দেখা যায়নি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের।

এদিকে এক বছর পর ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের ২১১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। এই কমিটিতে সহসভাপতি পদে ৩৮ জন, যুগ্ম সম্পাদক পদে ৯ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৯ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর বিভিন্ন দফায় হল কমিটির অনুমোদন দেয় বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগ। ২৬ জুলাই ২০১৮ সালে ছেলেদের ৯টির মধ্যে পাঁচটি (শাহজালাল, ফজলুল হক, ঈশা খাঁ, শহীদ নাজমুল আহসান ও আশরাফুল হক) হলের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ২৬ জুন পূর্ণাঙ্গ হল কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে ঈশা খাঁ হলে ৭৪ জন, শহীদ জামাল হোসেন হলে ৬২ জন, শাহজালাল হলে ৬৯ জন, নাজমুল আহসান ৬২ জন, শহীদ শামসুল হক হলে ৭৮ জন, আশরাফুল হক হলে ৮২ জন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ৭৩ জন, ফজলুল হক হলে ৮০ জন, সুলতানা রাজিয়া হলে ছয়জনসহ প্রায় ৭০০ জনকে স্থান দেওয়া হয়। বর্তমানে হল ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রায় ৯ শতাধিক পদধারী নেতা রয়েছে।

বিশাল কমিটিতে শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে চলতি বছরের ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জামাল হোসেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি দীপক হালদারকে সালাম না দেওয়ায় গভীর রাত পর্যন্ত কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করেন মাকসুদুল হক ইমু নামের এক ছাত্রকে। হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবদুল্লাহ হিশ শাফি, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শাওন এবং পাঠাগার সম্পাদক মো. রাহাত হোসেন রাত ১টার দিকে ওই ছাত্রকে হলের পূর্ব ব্লকের ৫ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাঁরা হল সভাপতিকে সালাম না দেওয়ার কারণ জানতে চান এবং তাঁকে স্ট্যাম্প দিয়ে পেটান।

গত সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলে ছাত্রলীগের পদধারী ছাত্র নেতাদের সঙ্গে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের হাতাহাতি ঘটে। এর আগে এ বছরের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের কে আর মার্কেটে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তায়েফুর রহমান রিয়াদ ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম তপন ও উপসম্পদক ইশতিয়াক ঈষানসহ প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।

এ ছাড়া ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের গেস্টরুমে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রলীগকর্মী প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। এতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা গেস্টরুমে যেতে অপারগতা জানান। নেতৃত্ব না মানায় দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগকর্মীরা ক্ষিপ্ত হন। ওই সময় হলের ব্লকে উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া মাদক, সিট বাণিজ্য, র‌্যাগিং, গেস্টরুম-শোডাউন কালচারসহ বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা পেলে যেকোনো মুহূর্তে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিন বছরে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। আমরা তৎক্ষণাৎ সমাধান করে নিয়েছি।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান বলেন, ‘ময়মনসিংহ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি শাখা ও ইউনিটের মেয়াদ অনেক আগে শেষ হয়েছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছি। খুব শিগগির সম্মেলন করে নতুন কমিটি ঘোষণার ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা