kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

বিদেশে বসে প্রতারণা

চুয়াডাঙ্গায় মোবাইল নম্বর ক্লোন করে চাঁদাবাজি

মানিক আকবর, চুয়াডাঙ্গা   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদেশে বসে প্রতারণা

বছরের পর বছর ধরে চুয়াডাঙ্গার সরকারি কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন নম্বর ক্লোন করে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা বের করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি, বিদেশে বসে ক্লোন করে কল করা হয়, তাই জড়িতদের ধরা যায় না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ অক্টোবর দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিম লিংকন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিনের নম্বর ক্লোন করে প্রতারণার চেষ্টা করা হয়। প্রতারকচক্র ওই দুই কর্মকর্তার নম্বর দিয়ে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কথা বলে। বলা হয়, চারটি ল্যাপটপ এসেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়ার জন্য। আপনার প্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ নিতে চাইলে আট হাজার টাকা দিতে হবে। তা না হলে অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে। জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহম্মদ এ রকম ফোন পাওয়ার পর খোঁজখবর নিয়ে বুঝতে পারেন, ঘটনা সত্য নয়, কেউ প্রতারণার চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনা জানার পর মুনিম লিংকন দামুড়হুদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

একই পদ্ধতিতে এর আগে চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগরের ইউএনও এবং একাধিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধির নম্বর ক্লোন করার নজির আছে। চলতি বছরের এপ্রিলে তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, তৎকালীন দামুড়হুদার ইউএনও রফিকুল হাসান ও জীবননগর উপজেলার বর্তমান ইউএনও মো. সিরাজুল ইসলামের নম্বর ক্লোন করা হয়। নম্বর ক্লোন করে প্রতারকচক্র বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফোন করে ল্যাপটপ দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার চেষ্টা করে।

চুয়াডাঙ্গা সদরের ইউএনও ওয়াশীমুল বারীর নম্বর এর আগে ক্লোন করা হলে তিনি সেই নম্বরটি পরিবর্তন করেন। পরে আবারও তাঁর নম্বর ক্লোন করা হয়। এ ছাড়া আলমডাঙ্গার সাবেক ইউএনও আজাদ জাহান, রাহাত মান্নান ও বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধির নম্বর ক্লোন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে এ ব্যাপারে একাধিক সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

একইভাবে ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ইউএনও ছাড়াও একাধিক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তার নম্বর ক্লোন করে প্রতারণার চেষ্টা করা হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে কিংবা খবর পাঠিয়ে সতর্ক করেছেন। প্রায় সব কর্মকর্তা বিষয়টি থানায় জিডি করে কিংবা মৌখিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছেন।

নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে চুয়াডাঙ্গার এক ব্যক্তি বলেন, ‘এক সাবেক সরকারি কর্মকর্তার ফোন পেয়ে ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়েছি। পরে জানতে পেরেছি নম্বর ক্লোন করে টাকা চাওয়া হয়েছিল।’

দামুড়হুদার ইউএনও এস এম মুনিম লিংকন জানান, তিনি নম্বর ক্লোনের বিষয় নিয়ে থানায় জিডি করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদরের ইউএনও ওয়াশীমুল বারী বলেন, ‘দুই দফায় আমার মোবাইল নম্বর ক্লোন করে প্রতারণার চেষ্টা করা হয়।’ জীবননগরের ইউএনও মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছরের প্রথম দিকে আমার মোবাইল নম্বর ক্লোন করা হয়। বিষয়টি জীবননগর থানাকে জানিয়েছি।’

দামুড়হুদা মডেল থানার পরিদর্শক সুকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমার সরকারি মোবাইল নম্বরটিও এর আগে ক্লোন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টাকা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছি। থানায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিডি করেছেন। কারা এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেশের বাইরে থেকে ক্লোন করা হয়। যা খুঁজে বের করা বেশ জটিল।’

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর ক্লোন করা হলে তত্ক্ষণাৎ সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়ার পর ব্যাপারটি আর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু যারা এ অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের খুঁজে বের করা উচিত। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা