kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

সাটুরিয়ায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প

সদস্যদের নামে ঋণ নিয়েছেন সভাপতি-মাঠকর্মী

সাব্বিরুল ইসলাম সাবু, মানিকগঞ্জ   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঋণ না নিয়েও ঋণের জালে আটকা পড়েছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের  সদস্যরা। আবার ঋণের কিস্তি শোধ করার পরও অনেকের হিসাব খাতায় তা জমা পড়েনি। এর সঙ্গে জড়িত দুজনকে চিহ্নিত করা হলেও সদস্যরা মুক্তি পাচ্ছেন না ঋণের কবল থেকে।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের গরিবদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে ৬০ জন সদস্য নিয়ে গঠন করা হয় গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন। প্রতি মাসে তাঁরা ২০০ টাকা হারে সঞ্চয় করেন। এক বছরে সঞ্চয় হয় দুই হাজার ৪০০ টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে জনপ্রতি আরো দুই হাজার ৪০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়। এই কোটা পূরণ করতে পারলে একজন সদস্য প্রথম দফায় ১০ হাজার টাকা ঋণ নিতে পারেন।

সাটুরিয়া উপজেলার গোলড়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্য ৬০ জন। তাঁদের সবারই ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। তবে তাঁদের অর্ধেকের বেশি সদস্য ঋণ নেননি। কিন্তু তাঁদের নামে ঋণ তুলে নিয়েছেন সমিতির সভাপতি আইয়ুব আলী ও মাঠকর্মী আমিনুল ইসলাম। অনেকে ঋণ নিয়ে কিস্তি শোধ করেছেন; কিন্তু তাঁদের পাস বইয়ে কিস্তি পরিশোধ দেখালেও অফিসের হিসাব খাতায় তা অপরিশোধ দেখানো হয়েছে। বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে ভুক্তভোগী সদস্যরা সাটুরিয়া একটি বাড়ি একটি খামার অফিসে অভিযোগ জানান। পরে বিষয়টি ঢাকা থেকে অডিট বিভাগ এসে তদন্ত করে সত্যতা পায়। অডিটে প্রমাণ পাওয়া যায় আইয়ুব আলী ও আমিনুল ইসলাম দুজন মিলে ভুয়া ঋণ নিয়ে ও ঋণের কিস্তি জমা না দিয়ে এই সমিতির প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সমন্বয়ক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক রত্না আক্তার জানান, তদন্তে টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার পর মাঠকর্মী আমিনুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর আইয়ুব আলীকে সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে ভুক্তভোগী সদস্যরা জানান, আট মাস ধরে এ ঘটনায় তাঁরা ঝুলে আছেন। এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও অভিযুক্ত দুজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা অভিযোগ করে আরো বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও জড়িত।

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা