kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

শ্রীবরদী সীমান্ত

কাঁটাতারের নিচে সুড়ঙ্গ আসছে গরু, মাদক

রেজাউল করিম বকুল, শ্রীবরদী (শেরপুর)   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাঁটাতারের নিচে সুড়ঙ্গ আসছে গরু, মাদক

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভারত সীমান্তে কাঁটাতার রয়েছে। কিন্তু এই কাঁটাতারের নিচে রয়েছে কালভার্ট বা ছোট সেতু। এর নিচে রয়েছে পানি চলাচলের ড্রেন বা সুড়ঙ্গ। বিজিবি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এ পথেই আসছে গরু ও মাদক। গত রবিবার সরেজমিনে স্থানীয় লোকজন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানীশিমুল ও সিংগাবরনা ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা বাবেলাকোনা, চান্দাপাড়া, দিঘলাকোনা, হারিয়াকোনা, মালাকোচা, বালিজুরি ও খারামোড়াসহ ১০-১২টি গ্রাম। এসব গ্রাম ঘেঁষে ভারত সীমান্ত। ওই সব স্থানগুলোতে রয়েছে ভারতে কাঁটাতারের বেড়ার নিচে পানি চলাচলের গোলাকৃতির কালভার্ট। আবার যেখানে কাঁটাতারের বেড়া শেষ সেখানে রয়েছে খোলা অংশ। অথবা জিরো পয়েন্টে ভারতীয় অংশের সেতুর নিচে খাল। এসব কালভার্ট, সেতু ও কাঁটাতারের বেড়ার শেষাংসসহ বিভিন্ন স্থানের ফাঁকফোকর দিয়ে যাতায়াত করছে চোরাকারবারিরা। তারা বিএসএফ ও বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রবেশ করছে ভারতের পোড়াকাশিয়া এলাকায়। সেখান থেকে আনছে গরু ও মাদকদ্রব্য। প্রতিদিন ভোরে গরু বেচাকেনা হচ্ছে খারামোড়া ও হারিয়াকোনাসহ কয়েকটি গ্রামে। মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে গোপনে। এসব চোরাকারবারির আধিপত্য নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে অন্তর্দ্বন্দ্ব। গরু চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে কর্ণঝোরার আজির, মেঘাদলের হাইদর, বালিজুরির আফছার, খারামোড়ার মজিবর ও আবুলসহ ব্যবসায়ী চক্র। এসব ব্যবসায়ীর সঙ্গে সখ্য হুন্ডি ব্যবসায়ীদের। প্রতিদিন হুন্ডির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হচ্ছে হাতবদল। স্থানীয়রা তাদের ভয়ে কিছু বলতে পারে না।

স্থানীয়রা জানায়, গরু চোরাচালান নিয়ে বিজিবি ও চোরাকারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় বিজিবি চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। এমনকি ভারতের রিংথিং পাড়ার সীমান্তের ১০৯৩ পিলারের পাশ দিয়ে গরু নিয়ে আসার সময় বিএসএফের গুলিতে কুমারগাতি গ্রামের বীরেন দালবত্র ছেলে বিশ্বাস ম্রং (৩৫) আহত হয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর ভারতের আসাম রাজ্যের মানকেরচর থানার শঠিমারী গ্রামের খলিল মিয়ার ছেলে মফিজুল হক (৩০) ও শ্রীবরদীর খারামোড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সুমন মিয়া (২৪) দুই হাজার ২৫০ ভারতীয় রুপি, ৩৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিজিবির হাতে আটক হয়। এর পরও থেমে নেই চোরাচালান। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে ওই সব গ্রামে বেড়ে যায় চোরাকারবারিদের আনাগোনা। কেউ ওপার থেকে গরু ও মাদকদ্রব্য নিয়ে আসছে। কেউবা এদের মহাজন। কেউবা হুন্ডি ব্যবসায়ী। একটা গরু ভারত থেকে নিয়ে এলে এক-দেড় হাজার টাকা পাওয়া যায়। প্রতি রাতে কেউ দুই-তিনটা গরুও নিয়ে আসে। এ জন্য বন্ধ হচ্ছে না গরু চোরাচালান। এমনটাই জানান খারামোড়া গ্রামের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মজিবর।

গরু চোরাচালানের সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জহুরুল হক জানান, প্রশাসনসহ স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করার নামে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে টাকা নেয় আফছার। এমনকি ভারতের খবরাখবর এনে দেয়।

সিংগাবরনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রেজ্জাক মজনু বলেন, ‘উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।’

শ্রীবরদী থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, ‘চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা