kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

চর্মরোগ

উত্তরে গরুর মড়ক শঙ্কায় কৃষক

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ নামের ভাইরাসজনিত নতুন এক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে গরু। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মশাবাহিত এ রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে আতঙ্কে আছে কৃষক ও খামারিরা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

ধুনট (বগুড়া) : এ উপজেলায় ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজে কমপক্ষে দুই হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিদিন আক্রান্ত গরুর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে কিষান-কিষানি ও খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আক্রান্ত গরুগুলোর পা ফুলে গেছে। গরুর সারা শরীরে বসন্তের মতো গুটি উঠেছে। পায়ের খুরায় ক্ষত দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার চকমেহেদী গ্রামের মওলা বক্সের দুটি, বাঁশপাতা গ্রামের জহির রায়হানের একটি ও পারধুনট গ্রামের নায়েব আলীর একটি গরু মারা গেছে।

উপজেলার অলোয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক, মজনু মিয়া ও আয়নাল হক জানান, এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই গরুর গায়ে ছোট ছোট গুটি দেখতে পান তাঁরা। প্রথম দিকে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। এর দুই-এক দিন পর দেখতে পান গুটির স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় পশু চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ানোর পর বর্তমানে আক্রান্ত গরু কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, এবারই প্রথম ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ নামে ভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ রোগের কোনো প্রতিষেধক নেই। এমন রোগ হলে অন্য গরু থেকে আক্রান্ত গরুকে আলাদা রাখতে হবে। মশার মাধ্যমে ছড়ানোর কারণে অবশ্যই রোগাক্রান্ত গরুকে মশারির মধ্যে রাখতে হবে। সুস্থ গরু মশারির মধ্যে রাখলে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। রোগের উপসর্গ দেখে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দুর্গাপুর (রাজশাহী) : উপজেলায় অসংখ্য গরু ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হয়েছে। কয়েকটি গরু মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছে গরু পালনকারী কৃষক ও খামারিরা। উপজেলার চৌপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক ইয়াকুব আলী জানান, তাঁর দুটি গরুর গায়ে গুটি বসন্তের মতো গুটি বের হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়কে জানালেও কেউ আসেনি। এ রোগে তার একটি গরু মারা গেছে। জানা গেছে, উপজেলার খাসখামার গ্রামের সেলিমের একটি গরু, ইসমাইল হোসেনের একটি বাছুর, বখতিয়ারপুরের শাহাদৎ হোসেনের একটি গরু, বর্ধমপুরের আকবর আলীর একটি গরু ও জয়নগরের আবদুস সালামের একটি গরু মারা গেছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত এই উপজেলায় ১৫টির মতো গরু মারা গেছে। এ ছাড়া আক্রান্ত হয়েছে আরো তিন শতাধিক গরু।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. আবদুল কাদির বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১০০টির মতো আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা দিয়েছি। তবে এ রোগে কোথাও গরু মারা যাওয়ার খবর পাইনি।’

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) : উপজেলার আওলা, কুসুম্বা, বালীঘাটা, মোহাম্মদপুর, আটাপুর ইউনিয়নে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ দেখা দিয়েছে। উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের কাশড়া গোবিন্দপুর গ্রামে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গাভি মারা গেছে। একই গ্রামের মুমিনুর রহমান বলেন, তাঁর চারটি গরু চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে। বাগজানা ইউনিয়নের পূর্ব রামচন্দ্রপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের একটি গর্ভবতী গাভি মারা গেছে। দানেজপুর গ্রামের খামারি রুবেল হোসেন বলেন, ‘সরকারি অফিসে গিয়ে কোনো টিকার ওষুধ পাইনি। তাই আতঙ্কে আছি।’ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আ. হাকিম বলেন, ‘এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত ১৫-২১ দিনের মধ্যে এটি ভালো হয়ে যায়। বাংলাদেশে এই রোগের টিকা না থাকায় আমরা প্রাথমিকভাবে বসন্তের টিকা দিচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা