kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

ফরম পূরণের নামে বাণিজ্য

রৌমারীর চার বিদ্যালয়ে লাগামহীন ফি আদায়

কুদ্দুস বিশ্বাস, কুড়িগ্রাম (আঞ্চলিক)   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কুড়িগ্রামের রৌমারীতে প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এসএসসির ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাগামহীন ফি আদায় করছেন শিক্ষকরা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মানছেন না প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা। উপজেলার প্রায় সব মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যেই এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। সরকারের কড়া নির্দেশনা থাকলেও উপজেলা প্রশাসন বা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এসব দুর্নীতি দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছে।

সরেজমিনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বড় চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসির ফরম পূরণের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা আদায় করে নিয়েছে। এর মধ্যে রৌমারী সরকারি সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে আদায় করা হয়েছে দুই লাখ টাকা। একইভাবে দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজে তিন লাখ, শৌলমারী এমআর স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক লাখ ২৫ হাজার এবং চরশৌলমারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এসএসসি ফরম পূরণে বিজ্ঞান বিভাগে এক হাজার ৫৬৫, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এক হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করা আছে। এর সঙ্গে কেন্দ্র ফি ৩০০ টাকা করে যোগ হবে। সে হিসাবে এসএসসি ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ৮৬৫ টাকা আদায় করা যাবে। ফরম পূরণের শেষ সময় আগামী ২৩ নভেম্বর। আর বিলম্ব ফিসহ ৩০ নভেম্বর। ওয়েবসাইটে লেখা, বোর্ডের নির্ধারিত ফির চেয়ে এক টাকাও অতিরিক্ত আদায় করা যাবে না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ ওঠে সঙ্গে সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানে চলে যাবে দুদকের টিম।

রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের নোটিশ বোর্ডে ফরম পূরণের ফির তালিকা দেখে মনে হচ্ছে যেন ডাকাতি করা হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের জন্য আদায় করা হচ্ছে দুই হাজার ৬০০ টাকা আর অন্যান্য বিভাগে দুই হাজার ৪০০ টাকা হারে। এ প্রতিষ্ঠানে সব বিভাগ মিলে ফরম পূরণ করেছে ৪৯০ জন শিক্ষার্থী। সে হিসাবে বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে তিন লাখ টাকারও বেশি আদায় করা হয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বদিউজ্জামান বলেন, ‘ফরম পূরণে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৬০০ টাকা নিচ্ছি, এটা তো নোটিশের মাধ্যমে আগেই জানিয়ে দিয়েছি।’

রৌমারী সরকারি সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে দুই হাজার ৫০০, মানবিক বিভাগে দুই হাজার ২০০ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে দুই হাজার ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানে ফরম পূরণ করেছে ৪২০ জন। এখানে অবৈধভাবে আদায়ের পরিমাণ দুই লাখ টাকা।

শৌলমারী এমআর স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে জানা গেছে আরো ভয়াবহ চিত্র। এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শহীদুল ইসলাম লিচু বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে। পরীক্ষা চালাতে নানা খরচ হয়। তা ছাড়া অনেক শিক্ষার্থীর বেতন বকেয়া রয়েছে।’ এ প্রতিষ্ঠানে ফরম পূরণে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীপ্রতি দুই হাজার ৮০০ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে আড়াই হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে সর্বমোট ১৮০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। আর চর শৌলমারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফরম পূরণে সর্বোচ্চ নেওয়া হয়েছে দুই হাজার ৩০০ টাকা করে। এখানে মোট ৯৬ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। সে হিসাবে এখানে অবৈধভাবে আদায় করা হয়েছে অর্ধলক্ষ টাকা।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুক্তার হোসেন বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায় করার বিষয়ে কড়া নির্দেশনা রয়েছে। লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা