kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

এমপিও হওয়ার পর উঠছে ভবন

কালিয়ায় শিক্ষক শিক্ষার্থীহীন বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হওয়ায় অবাক এলাকাবাসী

নড়াইল প্রতিনিধি   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমপিও হওয়ার পর উঠছে ভবন

এমপিওভুক্তির পর নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মাউলী ইউনিয়নের পঞ্চগ্রাম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করে তোলা হচ্ছে ঘর। ছবি : কালের কণ্ঠ

গত ২৩ অক্টোবর সরকার ঘোষিত এমপিওর তালিকায় নাম আসে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মাউলী ইউনিয়নের পঞ্চগ্রাম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। এ খবর পাওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাশের ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করে স্কুলঘর নির্মাণকাজ শুরু করেছে। চাকরি ছেড়ে দেওয়া শিক্ষকরা ফের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া শুরু করেছেন। প্রধান শিক্ষক আর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দৌড়ঝাঁপ বেড়ে গেছে। একই ইউনিয়নের ভালো বিদ্যালয় বাদ দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীহীন এ বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ায় অবাক এলাকাবাসী।

সরেজমিনে চান্দেরচর পঞ্চগ্রাম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা যায়, মাউলী ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত ভবনের পাশে টিনের ভাঙাচোরা একটি ঘর রয়েছে। খুপরি ঘরের পেছনে ঘন বন-জঙ্গল থাকায় ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। সেখানে তিনটি কক্ষের মধ্যে দুই-তিনটি করে বেঞ্চ রয়েছে। ঘরটি স্যাঁতসেঁতে ও দুর্গন্ধময়।

বিদ্যালয়ের সভাপতির নিজের জমিতে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করে নতুনভাবে মাটি দিয়ে একটি লম্বা রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য রাস্তার অন্য প্রান্তে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। সংবাদকর্মীদের আসার খবর পেয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিত করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাজির করা হয়েছে। শিক্ষক পরিচয়ধারী প্রত্যেকেই খণ্ডকালীন শিক্ষক বলে পরিচয় দেন।

প্রধান শিক্ষক নাজুমল হুসাইন জানান, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী প্রায় দেড় শ জন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে রেগে যান তিনি। বিদ্যালয়ের সভাপতি চান্দেরচর গ্রামের আসাদুজ্জামান বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে ঘর নির্মাণ হয়ে যাবে। বিদ্যালয়ের জন্য ৭৫ শতাংশ জমি অনেক আগেই কেনা রয়েছে। এখানে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে।

ক্লাস রুমে গিয়ে দেখা গেল, তিনটি বেঞ্চে নানা বয়সের কয়েকজন শিক্ষার্থী বসে আছে। তাদের কাছে বই-খাতা নেই। এদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা পাশের দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র।

নিজেদের ছলচাতুরী ধরা পড়ার পরে খোলাখুলি দৈন্যতার কথা স্বীকার করেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন এমপিও না হওয়ায় হতাশ হয়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয় ছেড়ে চলে গেছেন। ছাত্র-ছাত্রী না থাকায় অন্য বিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের আনা হয়েছে। তিনি দাবি করে বলেন, ‘এমপিও যখন পেয়েছি তখন দেখবেন ভালোভাবেই স্কুল চলবে।’

পাশের পঞ্চপল্লী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নূর ইসলাম শেখ বলেন, ‘এমপিও হওয়ার সব নীতিমালা না মেনে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে পঞ্চগ্রাম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমপিওর জন্য আবেদন করেছে। ছাত্র-শিক্ষকহীন বিদ্যালয়কে এমপিওভুক্ত করা হলো। অথচ আমাদের মতো ভালো স্কুল এমপিও পেল না। বিষয়টিতে আমরা হতাশ হয়েছি।’

পাশের একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘নামসর্বস্ব বিদ্যালয়কে এমপিওভুক্তি করা ঠিক হয়নি।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘এমপিও নীতিমালা অনুযায়ীই সরকারিভাবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। পঞ্চগ্রাম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা