kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

রংপুর কারমাইকেল কলেজ

বিদ্যুৎ সংযোগের অজুহাতে চলছে বৃক্ষ নিধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুর কারমাইকেল কলেজের দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস যেন সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। সারি সারি গাছের ডালপালা কাটার নামে অর্ধশতাধিক বৃক্ষ নিধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বৃক্ষ নিধনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের প্রয়োজনে গাছের ডালপালা কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান কলেজ অধ্যক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে কলেজের মূল ফটকের দুই পাশে গাছের ডালপালা কাটার নামে বৃক্ষ নিধনযজ্ঞ চালানোর চিত্র দেখা গেছে। বেশির ভাগ গাছের ডালপালা কাটার সঙ্গে সঙ্গে মূল গাছের বেশির ভাগ অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। কোথাও কোথাও গাছের গোড়া থেকেও কেটে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে কলেজের প্রধান ফটকের দুই পাশে অর্ধশতাধিক কাটা গাছ দেখা যায়। কলেজ ক্যাম্পাসের জিএল ছাত্রাবাসের সামনে কিছু কাটা গাছ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ছবি তুলতে গেলে বাধা দেন ওই ছাত্রাবাসের কিছু ছাত্র। ক্রয়-বিক্রয় নয়, কাটা গাছগুলো এনে ছাত্রাবাসের খড়ি হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে বলে জানান তাঁরা।

ছবি তুলতে না দিয়ে একই ধরনের কথা বলেন জিএল ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক সিরাজুল ইসলাম। এ ব্যাপারে খবর না প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিছু কাটা গাছ ও কেটে ফেলা ডালপালা কিনেছেন লালন নামে এক ছাত্রনেতা।

তবে গাছ কেনার ব্যাপারটি অস্বীকার করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাব্বি হক লালন। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো গাছ কিনিনি। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কলেজের কিছু গাছের ডালপালা কাটা হয়েছে। সেখান থেকে আমি দুই হাজার টাকা অধ্যক্ষকে দিয়ে খড়ির জন্য দুই ভ্যান ডালপালা কিনেছিলাম। পরে অধ্যক্ষ স্যারের নির্দেশে বাকি ডালপালাগুলো কলেজের গোডাউনে রেখেছি। স্যার পরে আমাকে দুই হাজার টাকা ফেরতও দিয়েছেন।’

এদিকে এভাবে বৃক্ষ নিধনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঐতিহ্যবাহী এই কলেজের সচেতন শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের কেবি ছাত্রাবাসে থাকা এক শিক্ষার্থী বলেন, যেভাবে গাছের ডালপালা কাটার কথা, সেভাবে কাটা হয়নি। ডালপালা কাটার নামে গাছ নিধন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্বের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ডালপালা কাটতে গিয়ে গাছগুলোকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে—এটা অন্যায়। বৃক্ষ রোপণে উৎসাহিত না করে কিভাবে ডালপালা কাটার নামে বৃক্ষ নিধন করা যায়, কলেজ প্রশাসন সেটাই দেখিয়ে দিল।

ঘটনা জানতে যোগাযোগ করা হলে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কম্পানি লিমিটেডের (নেসকো-৩) নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম মণ্ডল বলেন, ‘গাছ কাটা আমাদের কাজ নয়। বাতাসে গাছের ডালপালা বৈদ্যুতিক তারে যেন না লাগে, সেই অনুপাতে ডালপালা কাটার নিয়ম রয়েছে।’

এ ব্যাপারে কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কলেজ প্রশাসন কোনো গাছ কাটেনি। কিছুদিন আগে তিনজন বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। এ জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের প্রয়োজনে আমাদের অনুমতি নিয়ে কিছু গাছের ডালপালা কেটেছে। সেই ডালপালা কলেজের গোডাউনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর কিছু জ্বালানি খড়ি হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। এসব গাছ কাটা এবং বিক্রির জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা