kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

নীলফামারী

বিআরটিএ কার্যালয়ে উপচে পড়া ভিড়

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নীলফামারী বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে গত কয়েক দিন ধরে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। কেউ আসছে নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য, আবার কেউ আসছে মোটর বাইকসহ অন্যান্য যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন অথবা বিভিন্ন কাগজপত্র নবায়নের কাজে।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রতিদিন গড়ে ১৫০টি আবেদন জমা পড়ছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্সের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনের রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য কাজের জন্য লোকজন আসছে। এতে করে ভিড় জমছে কার্যালয়ের সামনে, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ।

মঙ্গলবার দুপুরে ওই কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক মানুষের আনাগোনা। সারিবদ্ধভাবে কার্যালয়ের সামনে দাঁড় করানো রয়েছে শতাধিক মোটরসাইকেল। এসব মোটরসাইকেলে অনেকেই এসেছে দূর-দূরান্ত থেকে। কেউ এসেছে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য, আবার অনেকে এসেছে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্রের কাজ সারতে।

কার্যালয়ের সামনে কথা হয় জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাজেডুমুরিয়া গ্রামের শিক্ষক হাফিজার রহমানের (৩৩) সঙ্গে। তিনি এসেছেন মোরসাইকেল চালানোর শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য। এ সময় তিনি বলেন, ‘নতুন আইনে অধিক কঠোরতা থাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে এসেছি। আমার মতো অনেকেই এসেছেন লাইসেন্স করাতে। ফলে অনেক মানুষের ভিড় জমেছে।’

একই কাজে এসেছেন ওই উপজেলার বাজেডুমুরিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আনার হোসেন (৩৫), জেলা শহরের নতুনবাজার এলাকার মাসুম হোসেন (২৯) ও ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ি ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের করিমুল হক (৩৪)। এর মধ্যে মাসুম হোসেন বলেন, ‘আইন মানার প্রবণতা আমাদের সবার আছে। কিন্তু আগে আইনের প্রয়োগ না থাকায় মোটরযান চালানোয় এসবের প্রয়োজন বোধ করিনি। এখন কঠোর আইন পাস হওয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য বিআরটিএ কার্যালয়ে সবাই আসছেন।’

এ ব্যাপারে নীলফামারী বিআরটিএ পরিদর্শক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন আইনের কারণে ভিড় বেড়েছে। এ জন্য কাজের চাপও বেড়েছে। প্রতিদিন ১৫০টির ওপরে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়ছে। চূড়ান্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে মাসে চারটি বোর্ড করে আমরা পরীক্ষা নিচ্ছি। তবে যে হারে চাপ বাড়ছে ওই চারটি বোর্ডে কুলানো সম্ভব হচ্ছে না। অফিসটিতে আমিসহ জনবল মাত্র তিনজন। এত কম জনবলে চাপ সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।’ তবে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা থাকায় এসব কাজ কিছুটা কমেছে।

নীলফামারী সদর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক সেলিম আহম্মেদ বলেন, ‘নতুন আইন পাস হওয়ার পর থেকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করছি। নির্দেশনা পেলে আগামী সপ্তাহ থেকে প্রয়োগের কাজ শুরু হতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা