kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া বিএনপির সম্মেলন নিয়ে লুকোচুরি!

শওকত মাহমুদের সঙ্গে কথা বলেই সম্মেলন করতে বললেন মহাসচিব

আবুল কাশেম হৃদয়, কুমিল্লা   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া বিএনপির সম্মেলন নিয়ে লুকোচুরি!

কুমিল্লার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির আগামী সম্মেলন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির মতো দলের সম্মেলন কাউকে না জানিয়ে গোপনে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাদের। আগামী ১৮ নভেম্বর এ সম্মেলন হওয়ার কথা।

অভিযোগ রয়েছে, অনেকটা নিষ্ক্রিয় কুমিল্লা জেলা বিএনপি সম্প্রতি ওই দুই উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি দিয়েছে। তাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিযুক্ত বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া বিএনপির সাংগঠনিক সমন্বয়কারী ও ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে সদস্য হিসেবেও রাখা হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেলা বিএনপিকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রতিবেদককে জানান, এভাবে বাসাবাড়িতে কমিটি বা সম্মেলন করলে, তা গ্রহণযোগ্য হবে না। বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া বিএনপির সাংগঠনিক সমন্বয়কারী শওকত মাহমুদের সঙ্গে কথা বলেই সম্মেলন করতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ ব্যাপারে জেলা কমিটিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন হওয়ার পর মহানগর কমিটি হওয়া না হওয়া এবং কারা মহানগর ও কারা জেলা কমিটিতে থাকবেন, তা নিয়ে অনেকটা দায়সারা গোছের কর্মসূচি দিয়ে চলেছে স্থানীয় বিএনপি। সম্প্রতি কেন্দ্রের নির্দেশে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন কুমিল্লার একটি কর্মসূচিতে এসে কাউকে না পেয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন। নতুন জেলা কমিটি যখন ঘোষণার অপেক্ষায়, সেই মুহূর্তে জেলা কমিটি গত ৯ আগস্ট হঠাৎ বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় উপজেলার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। তাতে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয় এ টি এম মিজানুর রহমান চেয়ারম্যানকে আর ব্রাহ্মণপাড়া বিএনপির আহ্বায়ক করা হয় হাজি জসিম উদ্দিনকে। অথচ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সমন্বয়কারী ও ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে সদস্য পর্যন্ত রাখা হয়নি। কমিটিতে শওকত মাহমুদের অনুসারী দু-একজনকে রাখা হলেও তাঁরা এর কিছুই জানেন না।

এ ব্যাপারে বুড়িচং বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলার কী একটা সম্মেলন হওয়ার কথা শুনছি, আবার শুনছি স্থগিত করেছে। জনবিচ্ছিন্ন ও প্রত্যাখ্যাত সুবিধাবাদীদের নিয়ে কমিটি হওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।’

বুড়িচং বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, ‘শুনেছি নতুন কমিটিতে আমাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। কিন্তু আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। আজ পর্যন্ত সভাও ডাকা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির সম্মেলন হচ্ছে। আমি সাবেক সাধারণ সম্পাদক অথচ আমি জানি না।’

অন্যদিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির কয়েকবারের সভাপতি বর্তমান আহ্বায়ক হাজি জসিম ব্রাহ্মণপাড়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে নামমাত্র ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন সম্মেলন করেছেন। ফলে প্রতি ইউনিয়নে পাল্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে বা হচ্ছে। তবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কমিটি করার ক্ষেত্রে তিনি কোনো প্রভাব বিস্তার করেননি। ১৮ নভেম্বর দুই উপজেলায় সম্মেলন হবে। সম্মেলন স্থগিত করার বিষয়ে কোনো নির্দেশ নেই। আহ্বায়ক কমিটিতে শওকত মাহমুদের লোকও আছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের কাছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কী নির্দেশনা দিয়েছেন, তা জানতে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন জানান, তিনি তাঁর উপজেলায় ৭২টি কমিটি করেছেন। প্রতিটি কমিটিতে ৭১ জন করে সদস্য আছে এবং সবই ভোটাভুটি ও সম্মেলনের মাধ্যমে হয়েছে। তিনি জানান, একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ সম্মেলনের অনুমতি দিচ্ছে না। এ জন্য তিনি বাড়ির পাশে বড় জায়গায় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়ায় শওকত মাহমুদ নামে কোনো শব্দ নেই। এখন এলাকার নেতা অধ্যক্ষ মো. ইউনুস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা