kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

শহরের বাইরে হচ্ছে পাসপোর্ট অফিস!

নাটোর প্রতিনিধি   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শহরের বাইরে হচ্ছে পাসপোর্ট অফিস!

নাটোরে জেলা শহরের বাইরে ইউনিয়ন পরিষদে নির্মাণ করা হচ্ছে পাসপোর্ট অফিস। শুধু তা-ই নয়, অফিসটি নির্মাণের জন্য যে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার ওপর আছে মার্কেট। গত মাসে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এ অবস্থায় মার্কেটটির মালিকের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

বেকারি ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম মার্কেটটির মালিক বলে জানা গেছে। তিনি জেলা শহরের মল্লিকহাটি এলাকায় থাকেন।

সালাম জানান, বিভিন্ন সময় বড় হরিশপুর ইউনিয়নের বড় হরিশপুর মৌজায় মোট ৪১ শতাংশ জমির মালিক হন তিনি। এ জমির সামনে মার্কেট ও পেছনে বেকারি কারখানা নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ঋণ নেন, যা বর্তমানে সুদাসলে দুই কোটি ১১ লাখ টাকা হয়েছে। পরে উপজেলা পরিষদ থেকে নকশা পাস করে জমির সামনে চারতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বর্তমানে আন্ডারগ্রাউন্ডসহ দোতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। মার্কেটের দোকানঘরগুলোর ছাদ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।

এ অবস্থায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর মার্কেটের জন্য নির্মিত ভবনের ২৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের চিঠি পান তিনি। একই সঙ্গে আপত্তি থাকলে তা ১০ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিতভাবে জানানোর চিঠি পান। এ চিঠি পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্টদের কাছে নিজের আপত্তির কথা লিখিতভাবে জানান তিনি। পরে গত ৫ নভেম্বর এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তেই অটল আছে জেলা প্রশাসন।

ব্যবসায়ী সালামের দাবি, বর্তমানে তাঁর জমির মূল্য শতাংশপ্রতি প্রায় ১০ লাখ টাকা। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত হওয়ায় এ জমির সরকারি গড় মূল্য ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা শতাংশ মাত্র। এ ছাড়া তিনি মার্কেটের দোকানঘর ইজারা দিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কারখানার জন্য প্রায় ৭০ লাখ টাকার মেশিন কিনেছেন। এ অবস্থায় যদি তাঁর জমি অধিগ্রহণ করা হয়, তাহলে তিনি নিঃস্ব হয়ে যাবেন।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান বলেন, ‘গত ২০ অক্টোবর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় প্রস্তাবিত জমিতে পাসপোর্ট অফিস না করে কালেক্টরেট অফিসের সামনে অথবা শহরের মধ্যে কোনো ফাঁকা জমিতে করার কথা বলা হয়। কারণ ফাঁকা জায়গা অধিগ্রহণ করা হলে সরকারের ব্যয় সাশ্রয় হবে। সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের বেশির ভাগ এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ইউনিয়ন পরিষদে পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ আমাদের বোধগম্য নয়। এতে যেমন একজনকে রাতারাতি নিঃস্ব করে দেওয়া হবে, তেমনি শহরের বাইরে পাসপোর্ট অফিসে যাতায়াতের জন্য লোকজনকে ভোগান্তি পোহাতে হবে।’

পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আলী আশরাফ বলেন, ‘আমার আগের কর্মকর্তারা এ জমি নির্বাচন করে অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন। সেই মোতাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যেকোনো সরকারি সংস্থার জন্য জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখাকে জানানো হয়। জেলা প্রশাসন জমি নির্ধারণ ও অধিগ্রহণের ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জমি অধিগ্রহণ করার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা অধিগ্রহণ নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ‘অন্যত্র জমি দেখার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পাসপোর্ট অফিস অনড় থাকায় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে জমিটি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে আপত্তির শুনানি গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা