kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

দখলবাজ যুবলীগ সভাপতি

বাউফলের এমপির কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দখলবাজ যুবলীগ সভাপতি

কালাইয়া নদী ও অন্যের জমি দখল করে নির্মিত পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার যুবলীগ সভাপতি শাজাহান সিরাজের বাড়ি। ছবি : কালের কণ্ঠ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অন্যের জমি ও নদী দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাউফল উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শাহজাহান সিরাজের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় এমপির কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ফল পায়নি ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, ১৯৫৫ সালে বাউফল পৌরশহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাবাড়ী সেতুসংলগ্ন কালাইয়া নদীর পশ্চিম পারে চন্দ্রপাড়া মৌজায় মনসুর আহমেদ, লালসন বিবি, হাচন ভানু ও বরুজান বিবির কাছ থেকে প্রবাসী দুই ভাই আব্দুর রহিম ও মো. ইদ্রিস ৫৫ শতাংশ জমি কেনেন। এর ৫৫ বছর পর লালসন বিবি ও হাচন বানু ওই দলিল বাতিল চেয়ে পটুয়াখালীর বাউফল সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। আদালত উভয়পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে ওই জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। আদালতের এ আদেশের পর আব্দুর রহিম ও মো. ইদ্রিস ওই জমিতে নিষেধাজ্ঞার আদেশটি সাইনবোর্ড আকারে ঝুলিয়ে দেন। আদালতের এ নিষেধাজ্ঞার পর প্রভাব খাটিয়ে যুবলীগ নেতা শাজাহান ওই সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে মনসুরের ওয়ারিশদের থেকে আট শতাংশ জমি দলিল করে নেন, যা আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরিপন্থী। শাজাহান দলিলের পর বিবাদীদের দখলে থাকা বাড়িঘর ও দোকানঘর ভাঙচুর করে। কয়েক দিনের ব্যবধানে শাজাহান ওই জমিতে স্থায়ী পাকাঘর নির্মাণ করেন। একই সঙ্গে ওই জমির পেছনে কালাইয়া নদীর পশ্চিম পার দখল করে সীমানা প্রাচীর দেন। এ ছাড়াও সীমানা প্রাচীরের বাইরে নদীগর্ভে পাকাঘাট নির্মাণ করেন। এতে নদীর ওই স্থান সংকুচিত হয়ে গেছে।

শাজাহানের এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় লোকজন সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, বাউফল থানা, স্থানীয় এমপির কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

বিবাদী মো. ইদ্রিস বলেন, ‘শাহজাহান রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জমি দখল করে নিয়েছে। এ বিষয়ে আমি স্থানীয় এমপি ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সহযোগিতা পাইনি।’

যুবলীগ সভাপতি শাজাহান সিরাজ বলেন, ‘আমার সঙ্গে কারো জমি নিয়ে বিরোধ নেই। বিরোধ থাকলে মূল মালিকদের মধ্যে থাকতে পারে। তা ছাড়া খালের (কালাইয়া নদী) পারে এক থেকে দেড় শ পরিবার বসবাস করে। সবাই খালের পানি ব্যবহার করছে। এতে দোষ দেখছি না।’

নদী দখলের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পীযুষ চন্দ্র দে বলেন, ‘এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা