kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঝালকাঠিতে কৃষকের স্বপ্ন চুরমার

ঝালকাঠি ও রাজাপুর প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কোথাও ধান পাকতে শুরু করেছে, কোথাও আবার শীষ বেরিয়েছে। কৃষকের চোখে যখন রঙিন স্বপ্ন। ঠিক তখনই ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত। তাতে ঝালকাঠির ৩০ হাজার কৃষকের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উঠতি আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফসল ঘরে তোলার সম্ভাবনা বিলীন হয়ে যায়। অসহায় কৃষকরা মাঠের দিকে তাকিয়ে ভবিষ্যতে পরিবার-পরিজনদের খাওয়া-পরার জোগানের চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়েছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ঝালকাঠিতে ৪৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ হয়। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে মুষলধারে বৃষ্টির পাশাপাশি সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় আমন ফসল তলিয়ে গেছে। কোথাও পাকা ধান ক্ষেত, কোথাও আবার সদ্য বের হওয়া শীষ ঢলে পড়েছে। ধানগাছগুলো পানির সঙ্গে মিশে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় ১৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর আমন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আক্রান্ত আমন ক্ষেতের ধান চিটা হয়ে যাবে।

উপজেলা সদরের পূর্ব চর রাজাপুর কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল হক হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের আমন ক্ষেতগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সবেমাত্র ধানের শীষ বের হয়েছে। এমন সময় ঝড়ে ধানগাছ হেলে পড়েছে। এভাবে পানির মধ্যে কিছুদিন থাকলে সব ধান চিটায় পরিণত হবে।

স্থানীয় কৃষক এছাহাক হাওলাদার বলেন, ‘আমরা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছিলাম। ঘূর্ণিঝড়ে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠব জানি না।’

নলছিটির সরই গ্রামের কৃষক রশিদ মোল্লা বলেন, ফসল পানিতে তলিয়ে আছে। এ বছর অন্তত ৫০ হাজার টাকা লোকসান হবে। কৃষি বিভাগকে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে জেলায় ১৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর আমন ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে জেলায় ১২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে কৃষকই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমন ধান এখনো পানিতে নিমজ্জিত। ধানগুলো চিটা হয়ে যেতে পারে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা