kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

মঠবাড়িয়ায় পানিতে নিমজ্জিত ফসল

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ষাটোর্ধ্ব কৃষক আব্দুল খালেক দুই একর জমিতে এবার আমন ধানের আবাদ করেছিলেন। ফসলের মাঠে শুধু সোনারং ধরেছিল। দুই সপ্তাহ পরই ধান কাটা শুরু করার প্রহর গুনছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ তাঁর সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। গত শনিবার থেকে ভারি বর্ষণ, সেই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে কপাল পোড়ে এই কৃষকের। তাতে মাঠের ধান নেতিয়ে পড়ে। দুই-তিন ফুট পানিতে তলিয়ে যায় মাঠের ফসল।

বিপন্ন কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, ‘২৫ হাজার টাকা ধারকর্জ করে ধান লাগাইছি। এহন এই মরাপচা ধান দিয়া কী হরমু। কেমনে চলবে জানি না।’

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার দক্ষিণ বড়মাছুয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেকই শুধু নন,  বুলবুলের তাণ্ডবে অতি জোয়ারের চাপে উপজেলার ১১ ইউনিয়নের আমন ফসল এখন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, প্রবল বর্ষণ আর জোয়ারের প্লাবনে ফসল নেতিয়ে পড়ে দুই-তিন ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তাতে প্রায় ৫৭ কোটি টাকার ফসলহানি ঘটেছে।

উপজেলার ঠুটাখালী গ্রামের কৃষক সঞ্জীব চন্দ্র গোমস্তা বলেন, ‘২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তিনি দেড় একর জমিতে আমন আবাদ করেছিলেন। কিছু ধান কেবল পাকছিল। বাকি আবাদি মাঠের ধানে কেবল ফলন ধরেছিল। কিন্তু সব এখন লণ্ডভণ্ড। বিপন্ন এ কৃষক বলেন, ধানে মাঠে খেসারি ডাল বীজ বুনছিলাম, তাও শেষ। কোনো ফসল আর এবার ঘরে নিতে পারমু না। ঋণের টাকা কেমনে দিমু সেই চিন্তায় চোহে ঘুম নাই।’

উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের তরুণ কৃষক নূরুল আমীন রাসেল জানান, আগামী চৈত্র মাস পর্যন্ত কৃষকরা কিভাবে খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলা করবেন তা কেউ জানে না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অর্থ ও বীজ সহায়তা প্রয়োজন।

মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন ঘূর্ণিঝড়, ভারি বর্ষণ ও অতি জোয়ারে ফসল বিনষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, প্রাকৃতিক এই ক্ষতির ফলে কৃষক এখন বিপন্ন। দ্রুত পানি অপসারণ করা গেলে কিছু ফসল বাঁচানো সম্ভব। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অর্থ সহায়তার পাশাপাশি ফসল সরবরাহ প্রয়োজন হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা