kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

লক্ষ্মীপুরে ফসল পচার আশঙ্কা

৯ হাজার হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেত থেকে দ্রুত পানি অপসারণ না করা হলে বাকি ধানেও পচন ধরবে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লক্ষ্মীপুরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও নদী-খাল-বিলের পানি বেড়ে চলতি মৌসুমের আমন ক্ষেত ডুবে রয়েছে। এতে জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৯ হাজার হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেত থেকে দ্রুত পানি অপসারণ না হলে ধানে পচন ধরে আরো বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাম কম হওয়ায় গত আউশ মৌসুমের ধান এখনো কৃষকদের ঘরে জমে আছে। গত আমন ধান আউশ মৌসুমে এসে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। জেলার বেশির ভাগ কৃষক সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ধান বেচতে পারেননি। সিন্ডিকেটের ধানে খাদ্যগুদামগুলো ভরপুর ছিল। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্তই থেকে গেছেন। এই ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি তাঁদের জন্য মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতেও আউশ মৌসুমে ধানসহ শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগরে ৭৮ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে এবার রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। ঝড়ে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে। তবে এটি আংশিক প্রতিবেদন। ক্ষেতের পানি শুকিয়ে গেলে পুরো ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হবে। আর ১৫-২০ দিন পরই কৃষক তাঁদের ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। এর আগেই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলকবলিত রামগতি উপজেলার চর আবদুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ উল্যা টিপু বলেন, ঝড়ে ক্ষেতের সব ধান গাছ নুইয়ে পড়ে পানিতে ডুবে আছে। কিন্তু এসব ক্ষতি দেখার জন্য কোনো কৃষি কর্মকর্তা আসেননি। তাঁরা কার্যালয়ে বসে ইচ্ছামতো ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সংগঠন লক্ষ্মীপুর ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল মমিন জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে নদী-খালের পানি বৃদ্ধিতে ও বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে আছে। এখনো বেশির ভাগ ক্ষেতের পানি শুকায়নি। কৃষকদের নালা তৈরি করে ক্ষেতের পানি সরানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পানি দ্রুত অপসারণ না হলে ধান পচে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কিশোর কুমার মজুমদার বলেন, ক্ষেতে পানি জমে থাকার কারণে পুরো ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। পানি কমে গেলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হবে। জনবল কম থাকায় প্রতিটি এলাকায় যেতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে সঠিকভাবেই ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা