kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

‘বুলবুলেতে’ ধান খেয়েছে কিস্তি দিবে কিসে?

রফিকুল ইসলাম, বরগুনা ঘুরে   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বুলবুলেতে’ ধান খেয়েছে কিস্তি দিবে কিসে?

লক্ষ্মীপুরে কমলনগরে চরমার্টিন গ্রামে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে নুইয়ে পড়েছে ধানের শীষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

চোখ যেদিকে যায় হালকা লাল আর গাঢ় সবুজের মাখামাখি। এর ভেতর দিয়ে পিচঢালা পথ। সেই পথ ধরে যখন কেউ ছুটে যাবেন গন্তব্যে, তখন রাস্তার দুই পাশে মাথাভর্তি ধান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো আপনাকে কুর্নিশ করবে। কয়েক দিন আগের এই দৃশ্য এখন আর নেই। বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ায় তছনছ করে দিয়েছে কৃষকের স্বপ্ন।

ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পডছে। তা বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন চাষিরা। পাঁচ-ছয়টা ধানগাছের গোছ একসঙ্গে করে ডগা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। যাতে ঝড় বা ভারি বৃষ্টিতে আর তা লুটিয়ে না পড়ে। কেউ আবার জমির মাঝ বরাবর নালা করে জমা জল বের করার পথ করছেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। তাঁদের কথায়, বুলবুলের জন্য সরকার যদি কৃষিঋণ মওকুফ করে, তাতে লাভবান হবেন জমি মালিকরা। যেসব চাষি মহাজন বা সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছেন, তাঁদের কিস্তি শোধ করার কোনো উপায় নেই।

বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা গ্রামের চাষি সেলিম শাহনেওয়াজ প্রায় পাঁচ একর জমিতে উফসী জাতের আমনের ধান চাষ করেছেন। তাঁর হাহাকার, ‘ধান কাটার মুখে বুলবুল বিপর্যয়ে আমরা শেষ হয়ে গেলাম। দিন দশেক পরেই ধান কাটব ঠিক করেছিলাম। এখন যতটা পারছি ধানের শীষ রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছি। একসঙ্গে অনেকগুলো ধানের গোছা অনেকটাই ঝড় সামলাতে পারবে। খড় নষ্ট হয়ে গেলেও পরে ধানের শীষ কেটে নিতে পারব।’

বরগুনার নলীর চাষি আলী হোসেন বলেন, উফসী জাতের ছোট বিরি ৫২ ধান গাছের লুটিয়ে পড়ল। এগুলোর যদিও কিছু উদ্ধার হয়, লম্বা গাছের দেশি জাতের ধানের অস্তিত্বই থাকবে না। ওগুলো কাটতে এখনো সপ্তাহ দুই বাকি রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় আট লাখ ৩৯ হাজার ৩৫৩ হেক্টর জমিতে আমন রোপণ হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ৩৪ হাজার ১৬ হেক্টর জমির আমন। বিভাগে এক লাখ ৯ হাজার ৪১৮ হেক্টর জমিতে রোপণ করা খেসারি ডালের পুরোটাই ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেঁপেগাছের ক্ষতির হার ৫০ শতাংশ বলে দাবি কৃষি কর্মকর্তাদের।  আবাদকৃত এক হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমির মধ্যে ৪৭৩ হেক্টর জমির পেঁপেগাছ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভাগের ছয় জেলায় পানের চাষ হয়েছিল ছয় হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে। কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, ঝড়ে ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ১৫২ হেক্টর জমির পানের বরজ।

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মতিউর রহমান বলেন, ৯৮০ হেক্টর জমির আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অধিদপ্তরের বরিশালের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘আমনে ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ হতে পারে। খেসারি ডালের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতভাগ।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা