kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

কৃষিতে ৩৩ কোটি টাকার ক্ষতি

সাতক্ষীরায় বুলবুলের হানা

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে অন্যের জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। ঝড়বৃষ্টিতে সব ধান মাঠে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণ পরিশোধ করবেন কী দিয়ে, সে চিন্তায় আছেন। ঘূর্ণিঝড়ে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন করলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তুজুলপুর গ্রামের বর্গা চাষি ইয়াছিন আলী, আখড়াখোলা গ্রামের আমজেদ আলী, সহরাব হোসেন এসব কথা জানান।

বুলবুল ঝড়ের কবলে পড়ে সাতক্ষীরা জেলার ৭৮টি ইউনিয়নে কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছপালা, মাছের ঘের, সরিষা, পানের বরজসহ সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার সব অঞ্চলে আমন ধানের আবাদ হওয়ায় এর ক্ষতির পরিমাণ অন্য ফসলের চেয়ে অনেকটা বেশি। প্রতিটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে জমা দিয়েছেন।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্যা আল মামুন জানান, ঘূর্ণিঝড়ের আক্রমণে ১২টি ইউনিয়নে এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া সেখানে সবজি ১৬০ হেক্টর, সরিষা ৫০ হেক্টর ও ১০০ হেক্টর জমির পান নষ্ট হয়েছে।

কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহসীন আলী জানান, পৌর সদরসহ ১২টি ইউনিয়নে ঝড়বৃষ্টিতে এক হাজার হেক্টর রোপা আমন, ১৫০ হেক্টর সবজি, ৩০০ হেক্টর সরিষা ও ১৫ হেক্টর জমির পান নষ্ট হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, ঝড়বৃষ্টিতে সদরে এক হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন, ২০০ হেক্টর জমির সবজি, ১৩০ হেক্টর জমির সরিষা ও পাঁচ হেক্টর জমির পান নষ্ট হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমীন জানান, তাঁর এলাকায় ছয় হাজার ৫০০ হেক্টর জমির রোপা আমন, ৭০ হেক্টর জমির সবজি ও ৩৫ হেক্টর জমির সরিষা নষ্ট হয়ে গেছে।

শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেন মিয়া জানান, উপজেলায় বুলবুলের আক্রমণে ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান, ১০০ হেক্টর জমির সবজি ও পাঁচ হেক্টর জমির সরিষা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

সম্প্রতি উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে যাওয়া বুলবুলের আঘাতে দুই হাজার ৫০০ হেক্টর জমির উঠতি বয়সী রোপা আমন ধান নষ্ট হয়েছে। এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জের আংশিক এলাকায় লবণাক্ত পানি। শুষ্ক মৌসুমে খাল বিল পুকুর ও নদীনালায় মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ত পানি থাকায় ফসল হয় না বলেই চলে। ফলে এসব এলাকার জমিগুলো একফসলি হয়ে পড়েছে। পরিবারের সারা বছরের খাদ্য সংগ্রহের জন্য বর্ষা মৌসুমে মিষ্টি পানি কাজে লাগিয়ে রোপা আমন ও সবজি চাষ করে থাকেন। এবার বুলবুল ঝড়ে এসব কৃষকের স্বপ্নসাধ যেন বাতাসে উড়ে গেছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দু বিশ্বাস জানান, আমনের ক্ষতির শতকরা হার ১০ ভাগ। উৎপাদন আকারে আমনের ক্ষতির পরিমাণ সাত হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন। যার মূল্য ২৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে রোপা আমনসহ মোট কৃষির ক্ষতি হয়েছে ৩৩ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা