kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

শিবপুরে আওয়ামী লীগের এজেন্ট মিলন হত্যা

বাদী জানতেন না আসামি কারা

কুখ্যাত সন্ত্রাসী জাহিদ সরকারকে প্রধান আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র

নরসিংদী প্রতিনিধি   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নরসিংদীর শিবপুরে গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এজেন্ট মিলন মিয়াকে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লাসহ আটজনকে আসামি করে মামলা করেছিলেন নিহতের স্ত্রী পারভীন বেগম। পরে তিনিই আবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, মামলা দায়েরের সময় মানসিকভাবে বিধ্বস্ত থাকায় এজাহারে কাদের আসামি করা হয়েছে তা জানতেন না।

এ কারণে এজাহারের সঙ্গে মামলার বাদী, সাক্ষী, প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত কর্মকর্তার অনুসন্ধানের মিল না থাকায় এজাহারনামীয় আসামিদের বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন নরসিংদী পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাহিদুর রহমান ভূইয়া। অভিযোগপত্রে থাকা ব্যক্তিরাই প্রকৃত আসামি বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন—শিবপুরের কুন্দারপাড়া এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে জাহিদ সরকার ওরফে জাহাজ সরকার (৪০), মৃত জয়নাল আবেদীন সরকারের ছেলে হৃদয় সরকার (২৫), মৃত চান মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩২), ভৈরবের চণ্ডিবের এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে রুবেল (২৬)। এর মধ্যে জাহিদ সরকারের আপন ভাতিজা হৃদয় সরকার ও ভাগ্নে রুবেল।

অভিযুক্ত সবাই ওই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জহিরুল হক ভূঞার সমর্থক ছিলেন।

গত ২৫ জুন কালের কণ্ঠে ‘শিবপুরে জাহিদ আতঙ্ক, আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ায় হত্যার হুমকি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন মিলন হত্যা মামলায় সাক্ষী দেওয়ায় আবদুল জলিল মিয়া নামের একজন হত্যার হুমকি দিয়েছিল জাহিদ সরকারসহ অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা।

মিলন হত্যা মামলায় প্রথমে তদন্তভার দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই রুপন কুমার সরকার এবং পরে সিআইডির এসআই সাহিদুর রহমান ভূইয়াকে। তদন্ত কর্মকর্তা ৯ মাস তদন্ত শেষে বাদীসহ মোট ৩১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গত ৫ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার অভিযোগপত্রের শুনানির দিন মামলার বাদী পারভীন বেগম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাাহিদুর রহমান নাহিদের আদালতে উপস্থিত হয়ে অভিযোগপত্র গ্রহণে আপত্তি নেই বলে জবানবন্দি দেন।

ফলে ওই মামলায় এজাহারনামীয় আসামি সাবেক সংসদ সদস্য ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, তাঁর ছোট ভাই শিবপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুর আলম মোল্লা তাজুল, আজিজুল হক, বকুল, আজিজুল, সোহেল মিয়া, পিয়াল ও আমজাদকে অব্যহতি দেওয়া হয়।

মামলার আইনজীবী আফজালুল কবির বলেন, বাদীর অনাপত্তি থাকায় আদালত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়েছেন। এতে এজাহারনামীয় আসামিদের অব্যহতি দিয়ে মামলার তদন্তে পাওয়া প্রকৃত আসামিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ারা জারির আদেশ করা হয়।

মামলার বাদী, তদন্ত কর্মকর্তা ও অভিযোগপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর শিবপুরের কুন্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দে  নৌকা প্রতীকের পোলিং এজেন্ট ছিলেন স্থানীয় বংপুর এলাকার মো. মিলন মিয়া। দুপুরের দিকে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঞা ওই ভোটকেন্দ  পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মোল্লা কেন্দ  পরিদর্শনে আসেন। ওই সময় অভিযুক্ত জাহিদ সরকারের নেতৃত্বে হৃদয় সরকার, দোলোয়ার ও রুবেলসহ কিছু যুবক ভোটকেন্দে  সিরাজ মোল্লাকে আক্রমণ করার পাঁয়তারা করে। ওই সময় সিরাজ মোল্লা কেন্দে র ৩ নম্বর বুথে প্রবেশ করলে এজেন্ট মিলন মিয়া বুথের বাইরে এসে দরজা বন্ধ করে দেন। সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বুথের দরজায় কোপাতে থাকে। ওই সময় কেন্দে  কর্তব্যরত পুলিশ সিরাজ মোল্লাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তখন জাহিদ সরকারের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা মিলন মিয়াকে ‘নষ্টের মূল’ বলে অভিযুক্ত করে। এরপর জাহিদ সরকারের নির্দেশে হৃদয় সরকার মিলনের গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে। মিলন মিয়াকে গুরুতর অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা