kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নবাবগঞ্জ

ইউপি চেয়ারম্যানের পেটে দুস্থের চাল!

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের জন্য বরাদ্দ চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পরিবার গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেয়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, তাদের নামে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড ইস্যু করা হলেও তারা সেই চাল ডিলারের কাছ থেকে উত্তোলন করতে পারছে না।

স্থানীয় দাউদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ হেল আজিম ২০১৭ সালে থেকে এখন পর্যন্ত ১৪ বার উত্তোলন করে প্রায় ১০ লাখ টাকার চাল আত্মসাৎ করেন।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় এক হাজার ৪৩৪ জন সুবিধাভোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম দফায় এক হাজার ৩৬৫ জন এবং পরে বর্ধিত তালিকার আরো ৬৯ জন যুক্ত হয়। এসব সুবিধাভোগী বছরে দুইবার ১০ টাকা কেজি দরে ৬০ কেজি চাল পায়।

দাউদপুর ইউনিয়নের রঘুনন্দপুর গ্রামের মোছা. সানোয়ারা বেগম বলেন, তাঁর কোনো জমি নেই। নিদারুণ কষ্টে তিনি দিনাতিপাত করছেন। তাঁর নামে ১০ টাকা কেজি দরে যে চালের কার্ড হয়েছে, তা তিনি জানেন না। কোনো দিন কার্ডের মাধ্যমে ডিলারের কাছ থেকে চালও তোলেননি।

একই অভিযোগ করেন ওই গ্রামের মজিবর রহমানের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, আজাহার আলী, মজিদা বিবি, বাদশা মিয়া, মো. আসাদুজ্জামানসহ অনেকেই।

ওই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম জানান, প্রথম তালিকায় কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে বর্ধিত তালিকায় ৬৯ জন সুবিধাভোগীর নাম সংযুক্ত করা হয়। ওই কার্ডগুলো কোনো সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছায়নি।

ওই ইউনিয়নের চালের ডিলার আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেই কার্ডের মাধ্যমে চাল দিয়েছি। কার্ড ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে চাল দেওয়া হয়নি।’

এ বিষয়ে দাউদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ হেল আজিম বলেন, ‘আমি ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করে তাদের মাধ্যমেই কার্ডগুলো বিতরণ করেছি। অভিযোগের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা