kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

ইজারা ও খাসে গলদ

কুষ্টিয়ার তারাগুনিয়া বাজার

তারিকুল হক তারিক, কুষ্টিয়া   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া বাজার গত বছরের চেয়ে সাত লাখ টাকা কমে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এখন ইজারাদার ইচ্ছামতো খাস (শুল্ক) আদায় করছেন। এ বিষয়ে হাট-বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পাল করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০০ বছরের পুরনো তারাগুনিয়া বাজারে সপ্তাহে রবি ও বুধবার খাস আদায় করা হয়। এ জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ইজারাদার নিয়োগ করা হয়। সেই মোতাবেক চলতি অর্থবছরেও দরপত্র ডাকা হয়েছিল। ৯ লাখ ৭১ হাজার টাকায় এই বাজারের সপ্তাহে দুই দিন খাস আদায়ের দায়িত্ব পান আবুল কালাম আজাদ।

বাজারের আড়তদার ও ব্যাপারীদের অভিযোগ, যুগ যুগ ধরে সপ্তাহে দুই দিন এখানে খাস আদায় করা হলেও এবার ইজাদারের লোকজন প্রতিদিন অধিক হারে জোর করে খাস আদায় করছেন। খাস দিতে না চাইলে ইজারাদারের ভাই-ভাতিজারা ব্যবসায়ীদের ওপর জোরজুলুম করে। অনেক সময় মারধরও করে। এই একই ইজারাদার আগের বছর ১৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকায় বাজার ইজারা নিয়ে এখান থেকে সপ্তাহে দুই দিন খাস আদায় করেছেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত বছর এই ইজারাদার বাজারটি ১৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছিলেন। এবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী শিশির কুমার চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ৯ লাখ ৭১ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন। এই অফিস সহকারী পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পদে এখানে কর্মরত। তিনি আরো নানা অনিয়ম করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে।

এই বাজারের ইজারা দরপত্রে অংশগ্রহণকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, দরপত্র গ্রহণের নির্ধারিত সময়ের পরে গোপনে অফিস সহকারী দাখিলকৃত দর আজাদের কাছে ফাঁস করে তাঁর কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন। এতে সরকার সাত লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সরকারি বিধি মোতাবেক এখানে এক কুইন্টাল মরিচ বিক্রি করলে ১০ টাকা খাস আদায় করার কথা; কিন্তু ইজারাদারের লোকজন সেখান থেকে ৬০ টাকা আদায় করছে। পেঁয়াজ-রসুন এক কুইন্টালে ছয় টাকা আদায়ের কথা। আদায় করা হচ্ছে ৭০ টাকা। শাকসবজি থেকে পাঁচ টাকা আদায় করার কথা। আদায় করা হচ্ছে ২০ টাকা। প্রতিটি পণ্য থেকে বাজারের ইজারাদার ১০ গুণের মতো বেশি খাস আদায় করছেন। সপ্তাহে দুই দিনের পরিবর্তে সাত দিনই আদায় করছেন।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, ইজারাদার আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন এবং কারবারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন। তাঁর নামে বাজার ইজারা হলেও ভাই আক্রামসহ অন্যরা এটি পরিচালনা করেন।

ইজারাদারের ভাই আক্রাম বলেন, ‘আমরা অনেক টাকায় বাজার নিয়েছি। আমাদের লস হচ্ছে বলে এটা করা হচ্ছে। কিন্তু এতে কারো কোনো অভিযোগ নেই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী শিশির কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘অভিযোগ মিথ্যা।’

দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ আহম্মেদ মামুন জানান, এই বাজারের ইজারাদার সরকারি নিয়মের বাইরে দুই দিনের পরিবর্তে সাত দিনই অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। এটা জানিয়ে একাধিক উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা হলেও বিষয়টি সুরাহা হয়নি। এটি সমাধানের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কোনো অভিযোগও আসেনি। এখন শুনলাম, আমি আজই ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা