kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি

পাঁচবিবিতে মসজিদ নির্মাণে অনিয়ম

সুমন চৌধুরী,পাঁচবিবি (জয়পুরহাট)   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সরকারি অর্থায়নে ইসলামী মডেল মসজিদ নির্মাণে স্থান নির্ধারণ ও জমি অধিগ্রহণে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

গত মে মাসে স্থানীয় সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদু দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কমিশন ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মসজিদ নির্মাণের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে ৪৩ শতাংশ জায়গা নির্ধারণ করা হয়। এরপর জয়পুরহাট গণপূর্ত বিভাগ ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্র প্রকাশিত হওয়ার পর জানা যায়, উপজেলা পরিষদের পাশে দমদমা মৌজার বাড়ি/ভিটা শ্রেণির ৪৩ শতাংশ জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। জয়পুরহাট জমি অধিগ্রহণ শাখা, পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও ইসলামী ফাউন্ডেশন জায়গা নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়নি। প্রস্তাবিত স্থানে সাইনবোর্ড টাঙানো হলে এলাকাবাসী এর বিরোধিতা করে।

পাঁচবিবির নাগরিক কমিটির অভিযোগ, প্রস্তাবিত স্থানের উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস। তাদের ধর্ম পালনের জন্য রয়েছে একাধিক মন্দির। এ ছাড়া দক্ষিণ পাশে ২০০ গজ দূরে রয়েছে উপজেলা জামে মসজিদ।

নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এ কে এম মাহাবুবুর রহমান সর্দার টুকু জানান, একটি পক্ষের যোগসাজশে গোপনে এই জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪৩ শতাংশ জমির জন্য দমদমা মৌজার জনৈক এ টি এম খলিলুর রহমানের বাড়ি/ভিটা শ্রেণির ৪১ শতাংশ জমি নির্ধারণ করা হয়। এরপর জমির দাম বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দেখানোর জন্য পাশের বাড়ি থেকে ২ শতাংশ উচ্চ মূল্যে কিনে নেয়। নিয়মানুযায়ী, জমির মালিক সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে তিন গুণ টাকা পাবেন। দমদমা মৌজার বাড়ি/ভিটা শ্রেণির জমির দাম এক লাখ ৬০ হাজার ৮৬১ টাকা। সেই অনুযায়ী ৪৩ শতাংশ জমির দাম তিন গুণ অনুসারে দুই কোটি সাত লাখ ৫১ হাজার ৬৯ টাকা। তবে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই কোটি ৪২ লাখ টাকার বেশি।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন জয়পুরহাট জেলা প্রশাসককে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাদেকুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, অক্টোবরে তদন্ত শেষ হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, জমি অধিগ্রহণের কাগজপত্র ঠিক থাকলেও মালিকের কাছ থেকে এখনো বুঝে নেওয়া হয়নি। জমির দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি ভালো বলতে পারবেন।’

জমির মালিক এ টি এম খলিলুর রহমান জানান, তাঁর জমির কত দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তা তিনি জানেন না।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, তদন্ত প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা