kalerkantho

শুক্রবার । ৮ মাঘ ১৪২৭। ২২ জানুয়ারি ২০২১। ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কুলাউড়া আ. লীগের সম্মেলন আজ

ধরবে কারা দলের হাল?

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধরবে কারা দলের হাল?

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর পর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সম্মেলনকে সামনে রেখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী নেতারা তৎপর হয়ে উঠেছেন। পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রতিদিন শহরে মিছিল করছেন। নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠিত হবে—এমনটাই আশা করছেন দলের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতারা। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরপরই ডজনখানেক পদপ্রত্যাশীরা শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আশীর্বাদ পেতে জোর লবিং চালিয়েছেন। পাশাপাশি তৃণমূল ও কাউন্সিলরদের সমর্থন আদায়ের প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুলাউড়া পৌর শহরের স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সম্মেলন শুরু হবে। সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ এমপি। প্রধান অতিথি থাকবেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সম্মেলনস্থল ও শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী প্রার্থীদের পক্ষে উপজেলাজুড়ে বিলবোর্ড ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। শহরে ও তৃণমূলের হাটবাজারে সম্মেলনের আসা সম্ভাব্য অতিথিদের পোস্টার ব্যাপকভাবে সাঁটানো হয়েছে। অতিথিদের সম্মানে বেশ কয়েকটি তোরণ ও গেট নির্মাণ করা হয়েছে।

কারা আসছেন কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে—এ প্রশ্নের জবাব মিলবে সম্মেলনে। সমঝোতা না ভোটে নেতা নির্বাচিত করা হবে—এ নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা। অনেকে আলোচনার মাধ্যমে কমিটির পক্ষে মত দিলেও কেউ কেউ কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে কমিটি হওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন। আবার অনেকে সমঝোতার মাধ্যমে নেতৃত্বে আসার জন্যও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৪ অক্টোবর পৌরসভা হলরুমে বর্ধিতসভায় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠছে আওয়ামী রাজনীতি।

এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মতিনকে সভাপতি ও রফিকুল ইসলাম রেনুকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। এরপর আর সংগঠনের কোনো সম্মেলন হয়নি। এর মধ্যে কমিটির অনেক দায়িত্বশীল পদের লোকজন মারা গেছেন। আবার অনেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে প্রবাসে গেড়েছেন স্থায়ী নিবাস। ফলে বিগত কমিটির বেশির ভাগ নেতাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। এর মধ্যে দলে বয়ে গেছে অনেক ঝড়ঝাঁপটা। একটা সময় দলীয় কোন্দলে বিপর্যস্ত ছিল দলের অবস্থা। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে আওয়ামী লীগ যেন নতুন করে জেগেছে। সর্বত্রই সাজসাজ রব। অনেকেই মনে করছেন, দলকে যাঁরা সুসংগঠিত করে কাজ করেছেন তাঁদের নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হোক।

দলের নেতাকর্মীরা বলেন, সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি আব্দুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদ সলমান রয়েছেন সর্বত্র আলোচনায়।

সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুল মুক্তাদির তোফায়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক ফজলু, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতা শফিউল আলম শফি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও দলের যুব বিষয়ক সম্পাদক আ স ম কামরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সি এম জয়নাল আবেদীন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বদরুল ইসলাম বদর রয়েছেন আলোচনায়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু জানান, দলের সম্মেলন যাতে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় সে জন্য ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে বর্ধিত কর্মিসভা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা