kalerkantho

শুক্রবার । ৮ মাঘ ১৪২৭। ২২ জানুয়ারি ২০২১। ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আওয়ামী লীগে হ-য-ব-র-ল

নন্দীগ্রাম ও কাহালুতে বছরের পর বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছাড়াই চলছে দল

ফিরোজ কামাল ফারুক, নন্দীগ্রাম (বগুড়া)   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলায় আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দিয়েই চলছে দলীয় কার্যক্রম। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হাতাশা বিরাজ করছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৫ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে জেলা কমিটির সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের আস্থাভাজন জাহেদুর রহমান জাহিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। আর জাসদ থেকে ২০১২ সালের শুরুতে আওয়ামী লীগে যোগদান করা নব্য নেতা আনিছুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ৯ মাস আগে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন। দলে যোগ দিয়েই তিনি সাধারণ সম্পাদকের মতো বড় একটি পদ পেয়ে যান।

এদিকে ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর আকস্মিকভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুর রহমান জাহিদ মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর জেলা সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের মৌখিক নির্দেশনায় রফিকুল ইসলাম রফিককে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ঘোষণা করা হয়। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন রানার নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে সব কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। কিন্তু গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মমতাজ উদ্দিন মারা যান। এর পর থেকেই মূলত নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগে দেখা দেয় হ-য-ব-র-ল অবস্থা। দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। চলতি বছরের ১৮ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন রানার নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিকসহ দলীয় নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করেন।

এদিকে হঠাৎ করেই চলতি বছরের জুন মাসে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলামও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এক হয়ে যান। এর পর থেকে তাঁদের নেতৃত্বেই চলছে দলীয় কার্যক্রম। ফলে দীর্ঘ সাত বছরেও উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি তাঁরা। এখন নেতাকর্মীরা যার যার ইচ্ছামতো দলীয় পদ ব্যবহার করে চলেছেন। প্রতিবাদ করার মতো কেউ নেই। যেন সবাই নেতা, কর্মী নন কেউ। এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগে তেমন কোনো দ্বন্দ্ব নেই। ব্যক্তিগত কিছু অপছন্দ থেকেই খুঁটিনাটি কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে মাত্র।’

কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের অবস্থাও নড়বড়। এ উপজেলায় সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিল ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি। এখানে মূল দল চলছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ঘিরেই। দলের ত্যাগী নেতাদের কোনো মূল্যায়নই করা হচ্ছে না এখানে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাহালুতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল দীর্ঘ সাত বছরেও হয়নি। সময়মতো সম্মেলন না হওয়ায় অধিকাংশ সাংগঠনিক কমিটির কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাদের দাবি, আগের চেয়ে তাঁদের সংগঠন এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে তৃণমূল থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী তাঁদের এই দাবি মানতে নারাজ।

একাধিক নেতাকর্মীর মতে, দল ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বেশির ভাগ নেতাকর্মীই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে উদাসীন। ক্ষমতার সুফলভোগী নেতাকর্মীরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তৎপর হলেও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বঞ্চিত নেতাকর্মীরা। অনেকে আবার দলীয় সুযোগ-সুবিধার জন্য জড়িয়ে পড়ছে দ্বন্দ্ব-কলহে। এ কারণে দলীয় কোন্দলও লেগে আছে সব সময়।

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন কবিরাজের ছেলে আল হাসিবুল হাসান কবিরাজ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আর দলীয় নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান পরাজিত হন। এর পর থেকে দ্বন্দ্ব আরো বেড়ে যায়। এ উপজেলায় দলীয় কর্মসূচি পালন হয় দুই ভাগে।

কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিন কবিরাজ বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো পাস করে দেয়নি। আর দলে ছোটখাটো গ্রুপিং তো আছেই। তবে যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগ করে তারা আমার সঙ্গে আছে। আর যারা বিভিন্ন দল থেকে এসেছে তারা আরেকটি গ্রুপ করেছে।’

কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘জেলা কমিটি সম্মেলন বিষয়ে এখনো নির্দেশনা দেয়নি। নির্দেশনা পেলে যথাসময়ে সম্মেলন করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা