kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

বাঁধহীন তীরবাসীর থরকম্প

বেড়িবাঁধের অপেক্ষায় কাঁঠালিয়াবাসীর ৪৮ বছর পার

কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঁধহীন তীরবাসীর থরকম্প

বুলবুল : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জনসচেতনতায় ভোলায় গতকাল মাইকিং করছে রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল প্রবল শক্তি নিয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এরই মধ্যে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ঝড়ের আভাস শুরু হয়ে গেছে। উপকূলীয় অঞ্চল ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায়ও গতকাল সন্ধ্যা থেকে ঝোড়ো বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অস্তিত্ব টের পেতেই কাঁঠালিয়াবাসীর চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ দেখা দিয়েছে। এ উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে বিষখালী নদী। উপজেলার আমুয়া থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ নদীতীরে নেই কোনো বেড়িবাঁধ। ফলে নদী তীরবর্তী গ্রামবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলায় জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁঠালিয়ায়। তা ছাড়া বাঁধ না থাকায় প্রতিবছর জলোচ্ছ্বাসে ফসল ও মৎস্যসম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এর পরও বেড়িবাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো তোড়জোড় নেই।

বিষখালী নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে কাঁঠালিয়া-রাজাপুর উপজেলা নাগরিক মঞ্চ নামের একটি সংস্থা ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদন করে। সংস্থার আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন, যুগ্ম-আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন বাচ্চু সিকদার স্বাক্ষরিত আবেদন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিলেও এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেড়িবাঁধ না থাকায় সিডরে এ উপজেলায় ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে এখানে। সেবার কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও বিষখালী নদীতে অতিরিক্ত পানি বাড়ায় ভেসে গেছে জেলেদের জাল ও নৌকা। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের ও ছোট-বড় পুকুর। নষ্ট হয়েছে ফসলের ক্ষেত।

এ ছাড়াও নিয়মিত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এলাকার ১০ হাজার হেক্টর জমি। বিষখালী নদীর নোনা পানিতে আমুয়া, হেতালবুনিয়া, মশাবুনিয়া, চিংড়াখালী, জয়খালী, কাঁঠালিয়া সদর, কচুয়া, শৌলজালিয়া, রঘুয়ারচর, তালগাছিয়া, আওরাবুনিয়া, জাঙ্গালিয়াসহ প্রায় ১২টি গ্রামের ফসলি মাঠ প্রতিদিন স্বাভাবিক জোয়ারেই প্লাবিত হচ্ছে।

কচুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা পরিষদ সদস্য আমিরুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘আমুয়া থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ না হওয়ায় আমরা বন্যার সময় খুবই অসহায় অবস্থার সম্মুখীন হই। ঘরবাড়ি আর কৃষির ভীষণ ক্ষতি হয়।’

কাঁঠালিয়া-রাজাপুর উপজেলা নাগরিক মঞ্চের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন বাচ্চু সিকদার জানান, বিষখালী নদীতে একটি বেড়িবাঁধের অপেক্ষায় উপকূলীয় উপজেলা কাঁঠালিয়াবাসীর ৪৮ বছর কেটে গেছে। কিন্তু স্বপ্নপূরণ হয়নি। বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদনের পর ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

উপজেলা চেয়ারম্যান এমাদুল হক মনির বলেন, ‘উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, এখানে একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার। বাঁধটি নির্মাণ করে জনসাধারণকে নিরাপদে রাখা সরকারের দায়িত্ব। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এটি নির্মাণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন বলেন, ‘বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা