kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

দুই বছর ধরে অস্ত্রোপচার বন্ধ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট) না থাকায় জরুরি প্রসূতিসেবা বিভাগের (ইওসি) অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে দুই বছর ধরে। ফলে দরিদ্র প্রসূতিদের মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে পাশের প্রাইভেট ক্লিনিক বা জেলা পর্যায়ে গিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে। অন্যত্র সেবা নিতে গিয়ে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রসূতির স্বজনরা।

গত বৃহস্পতিবার সকালের একটি ঘটনা। ইজি বাইকচালক নুরুল ইসলাম তাঁর স্ত্রী আবেদা খাতুনকে (২০) নিয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নান্দাইল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফটকে আসেন। তখন ইজি বাইকের ভেতরই প্রসূতি প্রচণ্ড প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন। কিন্তু ফটকের কাছে যেতেই এক নারী এসে বলেন, ‘এখানে বাচ্চা প্রসবের কোনো ব্যবস্থা নেই। চলেন আমার সঙ্গে, বাইরের হাসপাতালে ব্যবস্থা করে দেব।’ এ সময় ওই নারী জানান, ওষুধপত্র, বাচ্চা প্রসব—সব মিলেয়ে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকার পরিমাণ শুনে প্রসূতির স্বামী নুরুল ইসলাম থমকে যান। বলেন, ‘এত টেহা আমি কইত্যে দিয়াম।’

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে ৪ আগস্ট একটি বিদেশি দাতা সংস্থার অর্থায়নে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি প্রসূতিসেবা কার্যক্রম চালু হয়। তখন কমপ্লেক্সের দুজন চিকিৎসককে শল্য (সার্জিক্যাল) ও অবেদন (অ্যানেসথেসিয়া) বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ানো হয়। এ কার্যক্রম শুরু করার উদ্দেশ্য ছিল গ্রামাঞ্চলে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা। ২০০৮ সাল পর্যন্ত দাতা সংস্থার অর্থায়নে ইওসি কার্যক্রমটি চালু থাকে। নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, ইওসিতে প্রথম শল্যবিদ হিসেবে কাজ করেন ডা. তাজুল ইসলাম খান। তিনি এখন পদোন্নতি পেয়ে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন হয়েছেন। আর অবেদনবিদের দায়িত্বে ছিলেন ডা. আবদুল মোতালেব। ২০১৪ সালের শেষ দিকে তিনি অবসরে চলে যান।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান বিভাগের একটি সূত্রে জানা যায়, সচল থাকার সময় প্রসূতি বিভাগে প্রতি মাসে চার-পাঁচজন প্রসূতির অস্ত্রোপচার (সিজারিয়ান) হতো। ২০১৫ সালে প্রসূতি বিভাগের জরুরি অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর এক বছর পর ২০১৬ সালে গাইনি বিভাগে পরামর্শক (কনাসালট্যান্ট) হিসেবে ডা. দেলোয়ারা পারভীন যোগদান করেন। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান প্রসূতি বিভাগে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ নেন। এর অংশ হিসেবে অবসরকালীন ছুটিতে থাকা চিকিৎসক ডা. মোতালেবকে অবেদনবিদ হিসেবে চুক্তিভিত্তিক রাখা হয়। কোনো প্রসূতির অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দিলে ডা. মোতালেবকে ডেকে আনা হতো। আর শল্যচিকিৎসকের কাজ করতেন কনসালট্যান্ট ডা. দেলোয়ারা পারভীন। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে অবেদনবিদ পদে জেরিন আবদুল্লাহ নামের একজন চিকিৎসক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন। কিন্তু তিনি যোগদান করে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে চলে যান। প্রশিক্ষণ শেষে ফেরার পর গত বছরের ২৮ জানুয়ারি অন্যত্র বদলি হয়ে যান।

গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা  কাজী এনামুল হক জানান, গাইনি বিভাগের পরামর্শক ডা. দেলোয়ারা পারভীন বদলির জন্য ছাড়পত্র নিতে চাচ্ছেন। তখন কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান বলেন, ‘গাইনি বিভাগ খালি করে চিকিৎসককে বদলির ছাড়পত্র দিলে সেবাপ্রত্যাশী নারীদের কী হবে? 

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন মুজিবুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চিকিৎসকদের পোস্টিং শুরু হলে সমস্যাটি থাকবে না বলে আশা করছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা