kalerkantho

রবিবার । ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৪  মে ২০২০। ৩০ রমজান ১৪৪১

কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

জরাজীর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ রয়েছে ৫৩টি। এর মধ্যে ১১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত আইসিটি বিষয় বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ। ফলে ভবন ধসে পড়ার আতঙ্কে ভুগছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষও নেই। সায়েন্স ল্যাবরেটরি নামেমাত্র। গ্রন্থাগার সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। কুড়িগ্রাম শহরের সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন দুর্দশা দেখে হতবাক এলাকাবাসী।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮৯৫ সালে কুড়িগ্রাম হাই ইংলিশ স্কুল নামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ধরলা নদীর ভাঙনে বিলীন হলে ১৯৬৮ সালে নতুন শহরে ৭ দশমিক ৬ একর জমির ওপর বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য ৫৩টি অনুমোদিত পদ থাকলেও আছেন মাত্র ৪২ জন শিক্ষক। আইসিটি বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকায় স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে কোনো মতে ক্লাস নিচ্ছেন কয়েকজন শিক্ষক।

বিদ্যালয়ে ১৭টি ল্যাপটপ নিয়ে একটি কম্পিউটার ল্যাব থাকলেও ওয়াই-ফাই ও ইন্টারেন্ট সংযোগ না থাকায় ব্যাবহারিক ক্লাসের সময় শিক্ষার্থীদের তেমন কাজে আসে না। তার ওপর আসনসংখ্যা সীমিত থাকায় একসঙ্গে ক্লাসের সব ছাত্রকে নিয়ে ব্যাবহারিক ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। ১১টি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে দুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। জরাজীর্ণ একাডেমিক ভবনটির একটি কক্ষে বিজ্ঞান বিভাগের যন্ত্রপাতি রাখা হয়েছে। এ কক্ষে ২০ জনের বেশি ছাত্র ব্যাবহারিক ক্লাস করতে পারে না। ভবনটির ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে প্রতিনিয়ত। ফলে যেকোনো মুহূর্তে তা ধসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ে মিলনায়তনের অভাবে বিতর্ক, কুইজ, রচনা প্রতিযোগিতাসহ কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে না। ফলে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে না এখানকার শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে একটি খেলার মাঠ থাকলেও নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা হয় না। খেলাধুলার অনুপযোগী এই মাঠ বৃষ্টি হলেই ডুবে যায়। আর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিষেধ সত্ত্বেও স্থানীয়রা গরু-ছাগল চড়িয়ে মাঠ নষ্ট করে দেয়। বিদ্যালয়ের বিদ্যুতের লাইনের অবস্থাও বেহাল। একাডেমিক ভবনে বিদ্যুতের লাইন বিভ্রাটের কারণে এক সুইচে চলে পুরো ভবন।

গ্রন্থাগারের জন্য আলাদা কক্ষ না থাকায় একটি শ্রেণিকক্ষে বইপত্র রাখা হয়েছে। সেখানে কোনো লাইব্রেরিয়ান নেই। কয়েক হাজার বই তালাবদ্ধ থাকলেও বই পড়ার ও আদান-প্রদানের সুযোগ নেই। ফলে বই পড়ার আগ্রহ থাকলেও টিফিন পিরিয়ডে মাঠে এলোমেলোভাবে ঘুরে সময় কাটায় শিক্ষার্থীরা। দুটি ভবনের একটিতে তিনটি টয়লেট থাকলেও অন্যটিতে একটিও নেই। সরকারিভাবে সুইপার নিযুক্ত না থাকায় নোংরা ও দুর্গন্ধে প্রায়ই সময়েই ব্যবহার অনুপযোগী থাকে টয়লেট। ৩৬ আসনের একটি আবাসিক হল থাকলেও কোনো ভুর্তকি না দেওয়ায় দূরবর্তী এলাকার ছাত্ররা এর সুফল পায় না। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীনেশ চন্দ্র রায় বলেন, একাডেমিক ভবন নির্মাণের ব্যাপারে বারবার আশ্বাস শোনা গেলেও দীর্ঘদিনেও কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। ফলে বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদানসহ সার্বিক কার্যক্রম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা