kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

পরিকল্পনা ও নজরদারির অভাব

ভেজাল কীটনাশকে আমন নষ্ট

পীরগাছা

রবিউল আলম বিপ্লব, পীরগাছা (রংপুর)   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভেজাল কীটনাশকে আমন নষ্ট

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় আমন ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরের পীরগাছায় আমন ক্ষেতে ভেজাল কীটনাশক ব্যবহারে আমন ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাঠ পর্যায়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের তদারকি না থাকায় দেদার বিক্রি হচ্ছে ভেজাল কীটনাশক। বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে এসব ভেজাল কীটনাশক দোকানিদের পরামর্শে ক্রয় করে কৃষকরা প্রতারিত হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। মৌসুমের শুরুতেই বন্যার কবলে পড়ে কৃষক। কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, বন্যায় তিন হাজার ২০০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফলে বন্যার কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে দেরিতে আমন চারা রোপণ করেন। তবুও বেড়ে উঠছে আমন ধানের ক্ষেত। কিন্তু আমন ক্ষেতে ভেজাল কীটনাশক ব্যবহার করে বিপাকে পড়েছেন অনেক কৃষক। ভেজাল কীটনাশকে নষ্ট হয়ে গেছে আমন ক্ষেত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের নিজপাড়া (মাঝিপাড়া) গ্রামের আওলাদ হোসেন এক বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন। প্রথম থেকে ধানের চারা ভালোভাবেই বেড়ে উঠছিল। কিন্তু রোপণের এক মাস পরে অন্যদের দেখাদেখি বাড়তি ফলনের আশায় জমিতে কীটনাশক দেন। এতে কিছুদিন পরই চারা বিবর্ণ হতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে কীটনাশক পরিবর্তন করে দিয়েও আর কাজ হয়নি। বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে পুরো ক্ষেত।

একই এলাকার কৃষক গয়ছল আজমের ১৫ শতাংশ ও ছববুল ইসলামের আড়াই বিঘা জমিতে কীটনাশক দেওয়ার পর থেকেই জমির ধান নষ্ট হতে শুরু করে। ছববুল ইসলাম পরে অন্য ওষুধ দেওয়ায় তাঁর ক্ষেতের সামান্য উন্নতি হয়েছে। কিন্তু গয়ছল আজমের জমির ধান নষ্ট হয়েছে।

কাবিলাপাড়া গ্রামের আজিজল ইসলাম এক বিঘা ও মোশারফ হোসেন দেড় বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু কীটনাশক দেওয়ার পর থেকেই তাঁদের জমির ধান নষ্ট হতে শুরু করে।

কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি বিভাগ অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হাট-বাজারে যত্রতত্র কীটনাশকের দোকানের অনুমোদন দিয়েছে। এসব দোকানে নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে ভেজাল কীটনাশক বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পেয়ে অনেকে ওই দোকানিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিচ্ছেন।

কৃষক আজিজল ইসলাম বলেন, ‘উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায় না। আমন ক্ষেত পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচাতে দোকানিদের পরামর্শে কীটনাশক দিতে বাধ্য হয়েছি। এখন সঠিক পরামর্শের অভাবে ও ভেজাল কীটনাশকে আমার জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার উপপ্রধান কৃষি ও অর্থনীতিবিদ শেখ বদিউল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, নকল সার ও কীটনাশক বিনষ্ট এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সব জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেবেন।

উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল লতিব বলেন, ‘আমরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বাজার মনিটর করে থাকি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমুর রহমান বলেন, ‘ভেজাল কীটনাশকে কৃষকের ক্ষেত নষ্ট হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা