kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

পরিকল্পনা ও নজরদারির অভাব

তিন হাজার একর জমি অনাবাদি

ভাঙ্গুড়া

মাসুদ রানা, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন হাজার একর জমি অনাবাদি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ফসলের মাঠে জলাবদ্ধতা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিশাকোল গ্রাম থেকে সাতবাড়িয়া গ্রাম পর্যন্ত চার কিলোমিটার সাবমারসিবল সড়কের পশ্চিম পাশে প্রায় তিন হাজার একর জমিতে এখনো জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। এ কারণে চলনবিল অধ্যুষিত এসব জমিতে এ বছর রবিশস্য আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এই পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না নিলে এসব জমি এ মৌসুমে অনাবাদি থেকে যাবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত বছর এই সড়কে অপরিকল্পিতভাবে সংকীর্ণ ইউড্রেন নির্মাণ করায় বন্যার পানি ঠিকমতো নদীতে নামতে পারছে না বলে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

অষ্টমনীষা ও খানমরিচ ইউনিয়নের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে বিশাকোল থেকে সাতবাড়িয়া গ্রাম পর্যন্ত শতাধিক একর ফসলি জমির মধ্য দিয়ে চার কিলোমিটার সাবমারসিবল সড়ক নির্মাণ করা হয়। এই সড়কের দুই পাশে শত শত একর জমিতে শীত মৌসুমে রবিশস্য ও পরে বোরো ধান আবাদ করা হতো। দেড় যুগ আগে চলনবিল অধ্যুষিত বিস্তীর্ণ এই অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ অকার্যকর হয়ে পড়ায় বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার একর জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকে। তাই শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলের জমিতে ফসল আবাদ করে কৃষকরা জীবিকা নির্বাহ করে। বন্যায় প্রচুর পলি পড়ায় এসব জমিতে ফলন ভালো হয়।

এ অবস্থায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের অর্থায়নে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়ক নির্মাণ করা হয়। সড়কের দুই পাশের এসব জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য বিভিন্ন স্থানে তিন ফুট প্রশস্ত ১১টি ইউড্রেন নির্মাণ করা হয়। এসব ইউড্রেনের মাধ্যমে সড়কের পশ্চিম পাশের জমির ওপর থাকা বন্যার পানি সড়কের পূর্ব পাশের জমির ওপর দিয়ে গুমানী নদীতে নিষ্কাশন হয়। কিন্তু ইউড্রেনগুলো সংকীর্ণ হওয়ায় পানির প্রচণ্ড চাপ থাকা সত্ত্বেও পানি ধীরগতিতে নিষ্কাশন হচ্ছে। ফলে সড়কের পশ্চিম পাশের জমিতে বিশাল জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, সাবমারসিবল সড়কের প্রয়োজনীয় স্থানে প্রশস্ত ড্রেন নির্মাণ না করে যত্রতত্র সংকীর্ণ ইউড্রেন নির্মাণ করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাবমারসিবল সড়কটির পশ্চিম পাশে অষ্টমনীষা ও খানমরিচ ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার একর জমির ওপর তিন ফুট আবার কোথাও এক ফুট পরিমাণ পানি জমে আছে। সড়কের পূর্ব পাশে পানি কম থাকলেও সংকীর্ণ ইউড্রেন দিয়ে পর্যাপ্ত পানি বের না হওয়ায় সড়কের পশ্চিম পাশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ সময় দুটি ইউড্রেন মাটিতে ভরাট হয়ে অকার্যকর হয়ে আছে।

কৃষক শাজাহান আলী বলেন, ‘আমার সাত বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে আছে।’

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা প্রকৌশল অফিসের সদ্য বদলি হওয়া উপসহকারী প্রকৌশলী আফরোজা পারভীন দাবি করেন, সড়ক ও ইউড্রেন পরিকল্পনামাফিক করা হয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও অন্যান্য কারণে পানি নিষ্কাশনে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

অষ্টমনীষা ইউপি চেয়ারম্যান আয়নুল হক বলেন, উপজেলা প্রকৌশল অফিস সড়কে অপরিকল্পিতভাবে সংকীর্ণ ইউড্রেন নির্মাণ করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, বিষয়টি কৃষি অফিসের একার পক্ষে সমাধান সম্ভব নয়। তাই উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, কৃষকদের বাঁচাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা