kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। খণ্ডকালীন কর্মচারী রেখে কোনো রকমে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। ইউনিয়নগুলোতেও চিকিৎসাসেবার অবস্থা একই রকম। কর্তৃপক্ষ বলছে দ্রুত চিকিৎসক পাওয়া সম্ভব হলেও কর্মচারী পেতে দেরি হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর তীব্র সংকটে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ১৯৮ জনের বিপরীতে ১২৮ জন নিয়ে চলছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বিশেষজ্ঞসহ ৩২ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ১৯ জন।

যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মধ্যবর্তী হওয়ায় কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্ব অপরিসীম। পার্শ্ববর্তী যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মণিরামপুর, কলারোয়া, তালা ও ডুমুরিয়া উপজেলার রোগীরাও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসে। কেশবপুরসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে ৭৩ হাজার ১২০ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। আর রোগী ভর্তি করা হয়েছে সাত হাজার ৮৮৪ জন। সিজার করা হয়েছে ৩৩ জনকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে রোগীরা ফিরে গিয়ে এ সময়ের মধ্যে শহরের ছয়টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এক লাখ ৯ হাজার ৩৫৪ জন। সিজারসহ ছোট-বড় মোট চার হাজার ১৬৬ জনকে অপারেশন করা হয় এসব ক্লিনিকে।

চিকিৎসক সংকট ছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র নিশ্চিত করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, জুনিয়র কনসালট্যান্টসহ ৩২ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ১৯ জন। ৭৮টি তৃতীয় শ্রেণির পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৩৫টি। আর চতুর্থ শ্রেণির ২২টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৯টি। ত্রিমোহিনী, সাগরদাঁড়ি, মজিদপুর, বিদ্যানন্দকাটি, মঙ্গলকোট, পাঁজিয়া, সুফলাকাটি ও গৌরীঘোনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সহকারী সার্জন ও স্যাকমোর ১৮টি পদের মধ্যে ১২টি পদ শূন্য রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব সময় ডাক্তার পাওয়া যায় না। যাঁরা আছেন তাঁদের পক্ষেও এত রোগীর চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব। যে কারণে আউটডোরে চিকিৎসা নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোগীকে অপেক্ষা করতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা আহসানুল মিজান রুমি বলেন, ‘প্রতিদিনই ৮০ থেকে ১০০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকছেন। গত বুধবারও ৮০ জন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন। কম চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া বেশ কঠিন।’

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ১৯৮টি থাকলেও শূন্য রয়েছে ৭০টি। যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার মধ্যবর্তী হওয়ায় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্ব অপরিসীম। চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটের কথা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য খণ্ডকালীন পাঁচজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রেখে কোনো রকমে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসক পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও কর্মচারী পেতে দেরি হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা