kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

টাকা না দিলেই হয়রানি!

রাজবাড়ীতে প্রতিদিন লাইসেন্সের জন্য ছয়-সাত শ আবেদন জমা পড়ে

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টাকা না দিলেই হয়রানি!

নতুন সড়ক পরিবহন আইন চালুর সঙ্গে সঙ্গে রাজবাড়ীর বিআরটিএ অফিসে বেড়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে আসা ব্যক্তিদের ভিড়। অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন এই ভিড় প্রায় তিন গুণ। আর এ সুযোগে বিআরটিএ অফিসে লাইসেন্স করতে ইচ্ছুকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে টাকা না দিলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে।

বিআরটিএ অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলের লার্নারের জন্য ৩৪৫ টাকা এবং মূল ফি দুই হাজার ৫৪২ টাকা জমা দিতে হয়। প্রতিদিন লাইসেন্সের জন্য ছয়-সাত শ আবেদন জমা পড়ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ভবনের নিচতলায় অবস্থিত বিআরটিএ অফিসের সামনে গিয়ে দেখা যায় শত শত লাইসেন্স করতে আসা ব্যক্তি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সেখানে ভিড় করেছেন। লাইসেন্স পেতে ইচ্ছুকদের ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি ফি জমা দেওয়ার রসিদ, লাইসেন্সের জন্য গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ভোটার আইডি কার্ড ও ছবি বিআরটিএ অফিসে জমা দিতে হয়। পরে তাঁকে দেওয়া হয় লার্নার কার্ড, যে কার্ডের ভিত্তিতে তিন মাসের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। কিন্তু বিআরটিএ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা লাইসেন্স নিতে ইচ্ছুকদের কাছ থেকে অফিস খরচের নামে বিভিন্ন অঙ্কের অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে। এ কারণে তাঁরা অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এই অর্থ না দিলে লাইসেন্স পাচ্ছেন না।

তা ছাড়া অনেকে আবার বিআরটিএ অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাত-আট হাজার টাকায় চুক্তি করেন লাইসেন্স তৈরির জন্য। চুক্তি অনুযায়ী সব কাজ অফিসের মাধ্যমে হয়। টাকা দেওয়ার পর শুধু পরীক্ষার দিন হাজিরা দিতে হয় লাইসেন্স করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে। লাইসেন্স পেতে পরীক্ষায় কিছু না লিখলেও পাস করানো হয় অতিরিক্ত টাকা দেওয়া ব্যক্তিকে। এ ছাড়া অনেকে আবার বিভিন্ন শোরুমের মাধ্যমেও চুক্তি করে লাইসেন্স করছেন।

লাইসেন্স করতে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, লাইসেন্সের জন্য বিআরটিএ অফিসে এসেছেন, কিন্তু অনেক ভিড়। টাকা ছাড়া কাজ হয় এখানে। হাজার হাজার টাকা চুক্তি করে বিআরটিএ অফিসের কর্মকর্তারা লাইসেন্স করে দিচ্ছেন। যাঁরা চুক্তি করছেন না, তাঁদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

এর মধ্যে আলিফ হোসেন হৃদয় নামের এক ব্যক্তি বলেন, তিনি হিরো মোটরস শোরুমের মাধ্যমে আট হাজার টাকা চুক্তিতে লাইসেন্স করেছেন। শুধু তিনি নন, তাঁর মতো অনেকেই এভাবে লাইসেন্স করছেন। বৈধভাবে লাইসেন্স করতে হলে প্রথমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়। তারপর অফিস থেকে দেওয়া হয় একটি লার্নার কার্ড। এরপর পরীক্ষা নেওয়া হয়। সব ধরনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে দেওয়া হয় লাইসেন্স। কিন্তু বিআরটিএ অফিসে না গেলেও তাঁর সব কিছু হয়ে গেছে। পরীক্ষায় ফেল করার পরও তিনি লাইসেন্স হাতে পেয়েছেন। একে তো এটা অবৈধ পন্থা, তার ওপর এই প্রক্রিয়ায় সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, তিনি ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে রসিদ দিতে এসেছেন। রসিদ জমার পর অফিস খরচের জন্য তাঁর কাছে ২০০ টাকা চাওয়া হয়েছে। তবে তিনি ১০০ টাকা দিয়েছেন। এভাবে যে বা যাঁরাই আসছেন, সবার কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে অনেক ভিড়, যে কারণে সময় নষ্ট না করে তাঁরা টাকা দিচ্ছেন।

তবে রাজবাড়ী বিআরটিএ অফিসের মোটরযান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ মাসের শুরু থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের চাপ অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন দুই-আড়াই শ আবেদন জমা পড়ত, এখন জমা পড়ছে ছয়-সাত শ। অফিসের লোকবল কম থাকায় কাজে একটু সমস্যা হলেও সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। লাইসেন্স নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা ব্যাংকে টাকা জমার রসিদ অফিসে জমা দিয়ে লার্নার কার্ড সংগ্রহ করছেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে আবেদনকারীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই লাইসেন্স দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা