kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

নদীতে দেয়াল তুলে মাছ চাষ, প্রবাহ বন্ধ

জলাবদ্ধতায় দুই হাজার বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নদীতে দেয়াল তুলে মাছ চাষ, প্রবাহ বন্ধ

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফারুক সরকার কাঁঠালিয়া নদীর সেতুর নিচে দেয়াল নির্মাণ করে মৎস্য প্রকল্প গড়ে তোলেন। ফলে দুই হাজার বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফারুক সরকার প্রভাব খাটিয়ে কাঁঠালিয়া নদীর সেতুর নিচে বাঁধ দিয়ে মৎস্য প্রকল্প গড়ে তোলেন। কাঁঠালিয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নিচে আরসিসি দেয়াল দিয়ে বাঁধ নির্মাণের ফলে ভাওরখোলা ইউনিয়নের ছয় গ্রামের প্রায় দুই হাজার বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে।

এদিকে চেয়ারম্যানের ভয়ে এ ব্যাপারে মুখ খুলতে পারছে না এলাকার নিরীহ কৃষক। কেউ প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে হামলা-মামলার খড়্গ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছে না ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ। এ অবস্থায় জলাবদ্ধতা থেকে কৃষিজমি রক্ষায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে গ্রামবাসী।

গত বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, টানা তিনবার ভাওরখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এলাকায় তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে ওঠে। মো. ফারুক হোসেন সরকার চেয়ারম্যান হওয়ার পর অস্ত্র আর সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ইউনিয়নের সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। ঢাকা-মেঘনা সড়কের কাঁঠালিয়া শাখা নদীর ওপর প্রায় ৪০০ মিটার সেতুর নিচে আরসিসি বাঁধ দিয়ে কৃষকের প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে মৎস্য প্রকল্প গড়ে তোলেন। ফলে ভাওরখোলা, মহেষখোলা, শিবনগর, মির্জানগর, বৈদ্যনাথপুর ও ছোয়ানি গ্রামের প্রায় দুই হাজার বিঘা কৃষিজমি পানি সরতে না পারায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি থাকায় কৃষকরা ওই জমিতে রবিশস্য ফলাতে পারছে না।

এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষক হাছান আলী বলেন, ‘ভাওরখোলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফারুক সরকার আমাদের জমিতে জোর করে মাছ চাষ করছেন। তাঁর কারণে আমাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছি না।’

স্থানীয় সমাজসেবক মো. লিটন আব্বাসী বলেন, ‘ভাওরখোলা ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে নিরীহ কৃষকের জমিতে মাছ চাষ করছেন। কাঁঠালিয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নিচে আরসিসি দেয়াল দিয়ে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের ফলে ইউনিয়নের ছয় গ্রামের প্রায় দুই হাজার বিঘা কৃষিজমিতে কৃষকরা ফসল ফলাতে পারছে না। আমরা এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। তাই শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেছি।’

ভাওরখোলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন সরকারের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা বেগম বলেন, ‘কৃষকদের কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। শিগগিরই অবৈধভাবে নির্মিত বাঁধ ভেঙে দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা