kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চিকিৎসককে মারধর ভাইস চেয়ারম্যানের

অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী শেখের বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে মারধরসহ দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার দুপুরে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ ওই চিকিৎসকের।

প্রসঙ্গত, ইউসুফ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কও।

মারধরের শিকার ওই চিকিৎসকের নাম শাকিল হামজা। বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

ডা. শাকিল অভিযোগ করেন, “মঙ্গলবার হাসপাতালে রোগী দেখার সময় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এক নারী (পুরনো রোগী) এক যুবককে নিয়ে টিকিট ছাড়া রুমে ঢোকেন। নতুন রোগীর চাপ থাকায় তাঁকে পরদিন আসার পরামর্শ দিই। তাঁরা চলে যাওয়ার পাঁচ-সাত মিনিট পর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ শেখ রুমে ঢুকেই আমাকে মারধর শুরু করেন। আমাকে গলা টিপে ধরে লাথি মারতে মারতে টেনেহিঁচড়ে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। এ অবস্থায় আত্মরক্ষার্থে আমি জরুরি বিভাগের ওয়াশরুমে ঢুকলে আমাকে সেখানে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে বের হয়ে একটি ওষুধ কম্পানির গাড়িতে পালিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছি। বিকেলে এ বিষয়ে মামলা করতে থানায় গেলে ওসি সাহেব বলেন ‘আপনার সম্পর্কে অনেক নেগেটিভ কথা শুনেছি।’ অভিযোগ নেওয়ার কথা বললেও নানা টালবাহানায় তিনি (ওসি) অভিযোগ নেননি। বিষয়টি আমি সার্কেল এএসপি ও ঊর্ধ্বতন চিকিৎসক কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) তাসলিমা জান্নাত বলেন, ‘কোনো জনপ্রতিনিধি একজন সরকারি চিকিৎসকের গায়ে কোনোভাবেই হাত তুলতে পারেন না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মমিন মণ্ডলকে জানানো হয়েছে। তিনি (আজ বৃহস্পতিবার) এলাকায় এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ বলেন, ‘চিকিৎসক শাকিল হামজা এক নারী রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি জানার পর আমি চিকিৎসকের রুমে গিয়ে দুর্ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে তাঁর সঙ্গে আমার তর্কাতর্কি হয়েছে। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

বেলকুচি থানার ওসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসক থানায় এসে ঘটনার কথা জানিয়েছেন। অভিযোগ নিয়ে পরে আসবেন জানালেও আর আসেননি।’ ওসি আরো বলেন, ‘চিকিৎসক কোনো অভিযোগ না দিলেও এক নারী তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছেন।’

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাচ্ছি। চিকিৎসক ঘটনার বিষয়ে এখনো আমাদের কিছু জানাননি। লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা