kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধানের দাম কম

খড় হিসেবে ক্ষেত বিক্রি

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খড় হিসেবে ক্ষেত বিক্রি

দাম না পাওয়ার শঙ্কায় ধান পাকার আগেই তা কেটে খড় হিসেবে বিক্রি করছে কৃষকরা। ছবিটি গতকাল রংপুরের গঙ্গাচড়া হাট থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘এবারও ধানোত লোকসান হওয়ার ভয় আছে বাহে। সেইবাদে ধান কাটার আগোত ভুঁইওতে (জমিতে) ধানগাছসহ বেচে দেওচি। ধান কাটার জন্য আর বাড়তি খরচ করা নাইগবার নয়।’ এমন কথা বলেন রংপুরের গঙ্গাচড়ার সয়রাবাড়ী এলাকার কৃষক মিন্টু মিয়া। শুধু তিনিই নন, এ এলাকার কৃষকরা দাম না পাওয়ার শঙ্কায় ধান কেটে ঘরে তোলার বদলে পাকার আগেই উঠতি আমন ধানক্ষেত ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর এসব ধান কেটে বাজারে খড় হিসেবে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

উত্তরের ১৬ জেলায় প্রতিবছর আমন, আউশ ও বোরো ফসলের উৎপাদন হয় এক কোটি ২২ লাখ ৪৫ হাজার ২৫৪ মেট্রিক টন। চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চাহিদা বাদ দিয়ে বছরে এ অঞ্চলে খাদ্যের উদ্বৃত্ত থাকছে ৫৫ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। এত ফসল ফলিয়েও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকার মজুদবিরোধী অভিযানের ঘোষণা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

জানা গেছে, ফসল ওঠার শুরুতেই একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারে নেমে পড়ে। তারা কৃষকদের কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য করে। এ ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। অনেক ক্ষেত্রে এরা কৃষককে আগাম ঋণ দেয়। ঋণ পরিশোধে বাধ্য হয়ে কৃষক কম দামে ফসল বিক্রি করেন। প্রতি মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের কয়েক শ অটো রাইসমিল মালিক ধানের মজুদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রাম-গঞ্জে দালাল ফড়িয়া নিয়োগ করে। এরা মাঠপর্যায়ের কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তা ছাড়া একটি মজুদদার সিন্ডিকেট ধানের মৌসুমে কোমর বেঁধে মাঠে নামে। তারা তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে ধান-চালের বিশাল মজুদ গড়ে তোলে। পরে মূল্য বাড়িয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে।

রংপুর সদরের মমিনপুর এলাকার কৃষক নিজামুদ্দিন, গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ এলাকার কৃষক ফজলুর রশিদ, কাউনিয়ার টেপামধুপুর এলাকার রফিকুল ইসলাম, মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ এলাকার ফয়জুদ্দিনসহ কয়েকজন কৃষক জানান, গ্রামাঞ্চলে এখন ধানের দাম কমে গেছে। প্রতি মণ ধান ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ধানের তুলনায় চালের দাম তেমন কমেনি। এ সুযোগে একটি সিন্ডিকেট কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে মজুদ করছে। এ কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁরা আরো জানান, খাদ্যশস্য বলতে শুধু ধান-চালই উদ্বৃত্ত নয়, চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ শাক-সবজি উৎপাদন করে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রতিটি পণ্যেই ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আর ১৫ থেকে ২০ দিন পর ধান পাকবে। এমন অবস্থায় কৃষকরা ধানক্ষেত বিক্রি করে দিচ্ছেন। গঙ্গাচড়ার সয়রাবাড়ী গ্রামের কৃষক মিন্টু ৫৬ শতক জমির ধান ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। আলমবিদিতর ইউনিয়নের খামার মোহনা গ্রামের নুরুল ইসলাম ৫০ শতক জমির ধান জমিতেই আট হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি জানান, ওই ধান কাটতে অন্তত দুই হাজার টাকা খরচ হতো। এর চেয়ে আগেভাগেই বিক্রি করে দিয়েছেন।

স্থানীয় বড়াইবাড়ী ও গঙ্গাচড়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, খড় ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকে কাঁচা ধান কেটে আঁটি বেঁধে গবাদি পশুর খাদ্য (খড়) হিসেবে বিক্রি করছেন। প্রতি আঁটির দাম নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। মহাদ্দী নামের খড় ব্যবসায়ী বলেন, ধানের দাম কম হলেও খড়ের চাহিদা বেশি হওয়ায় অনেকে ধানক্ষেত বিক্রি করে দিচ্ছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা