kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চাঁদাবাজির কর্তৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব

শিবালয়ের উথলী জাফরগঞ্জ রুট

সাব্বিরুল ইসলাম সাবু, মানিকগঞ্জ   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাঁদাবাজির কর্তৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব

উথলী স্ট্যান্ডে সিএনজি থেকে চাঁদা আদায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী-জাফরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। রুট পরিচালনার নামে এই চাঁদাবাজি করছেন উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইসমাইল হোসেন। এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির সদস্য ও উথলী ইউনিয়ন যুবলীগের সহসম্পাদক মো. আওলাদ হোসেন। তবে সাধারণ মালিক ও চালকরা বলছেন, দায়িত্বে যে-ই থাকুক তাদের চাঁদা দিতেই হয়। এটি মূলত চাঁদাবাজি নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব।

অভিযোগকারী আওলাদ হোসেন বলেন, ইসমাইল হোসেন অটোরিকশার মালিক নন। চালক বা শ্রমিকও নন। তার পরও দলের প্রভাব খাটিয়ে তিনি উথলী-জাফরগঞ্জ রুট পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আর তাঁকে সহযোগিতা করছেন উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র দাস। অভিযোগ অনুযায়ী, উথলী-জাফরগঞ্জ রুটে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ১৬০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। প্রতিটি অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন কর্মচারী বেতনের নামে (জিপি) ৫০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। অথচ এর সামান্য টাকা কর্মচারীর বেতন দিয়ে বাকি টাকা পকেটে পুরছেন ইসমাইল হোসেন। তা ছাড়া নিয়ম ভেঙে সিরিয়াল দিয়ে মাসে গড়ে ২০ হাজার টাকা আদায় করছেন তিনি। নতুন গাড়ি ঢুকলে তাকে দিতে হয় ৩০ হাজার টাকা নজরানা। টাকা না দিলে নতুন গাড়ি নামতে দেওয়া হয় না এই রুটে। তা ছাড়া পুলিশ ম্যানেজ করার নামে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কয়েক মাস আগে ইসমাইল হোসেনকে মালিক-শ্রমিকরা মিলে বিতাড়িত করেছিলেন। কিন্তু দলের প্রভাবশালীদের মদদে তিনি আবার এই কাজ করে চলেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইসমাইল হোসেন দাবি করেন, সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি গাড়ি থেকে ৩০ টাকা হারে আদায় করা হয়। যা দিয়ে কর্মচারীদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচ চালানো হয়। তা ছাড়া অন্য কোনো চাঁদা আদায় করা হয় না। তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্বে থাকায় যারা অবৈধভাবে টাকা কামাই করতে পারছে না, তারাই মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।’

উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র দাস বলেন, সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিনি ইসমাইল হোসেনের পক্ষে সুপারিশ করেছেন। কোনো ধরনের অবৈধ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মালিক ও চালক বলেন, দায়িত্বে যে বা যারাই থাকুক, চাঁদা তাদের দিতেই হয়। কিন্তু সেই চাঁদার টাকা কোথায় খরচ হয়, তার হিসাব তাদের দেওয়া হয় না। অভিযোগ সম্পর্কে তাঁরা বলেন, এটা হচ্ছে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বে একদল হটবে, আরেক দল বসবে। তাতে তাদের কোনো লাভ নেই। তারা চাঁদাবাজির হাত থেকে উদ্ধার পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামিম বলেন, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগীদের তিনি শিবালয় থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তদন্ত করে এ বিষয়ে আইনগতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা