kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বালুর ট্রাকে ভাঙছে রাস্তা

প্রসূন মণ্ডল, গোপালগঞ্জ   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বালুর ট্রাকে ভাঙছে রাস্তা

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর কালনা ফেরিঘাট-ভাটিয়াপাড়া মোড় সড়কের মানিক শেখের বাড়ি থেকে মাদরাসা পর্যন্ত বেহাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া-কালনা সড়কের প্রায় আধাকিলোমিটার ভেঙে দেবে গেছে। বালুবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে এমনটি ঘটেছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীসাধারণের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বারবার পদক্ষেপ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলার কালনা ফেরিঘাট থেকে ভাটিয়াপাড়া মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩৫টি বালুর চাতাল রয়েছে। এর মধ্যে মানিক শেখের বাড়ি থেকে মাদরাসা পর্যন্ত প্রায় আধাকিলোমিটার সড়ক ভেঙেছে বেশি। বালু ব্যবসায়ী আফজাল শেখ, রঞ্জু শেখ, এমরান মৃধা, এস্কেন সিকদার, স্বপন সরদার, রুহুল সরদার, শাবু মুন্সীসহ বালু ব্যবসায়ীরা পাঁচ-ছয় বছর ধরে ব্যবসা করছেন।

তাঁরা সবাই কাশিয়ানী ও রাতইল ইউনিয়নের বাসিন্দা। এসব ব্যবসায়ী মধুমতী নদীর মহাল থেকে বালু উত্তোলন করে এই সড়কের পাশে রেখে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মালিকের কাছে বালু বিক্রি করে আসছেন। এসব বালু ১০ চাকার ট্রাকে করে আনা-নেওয়ার কারণে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন এর আগে বালু ও ইটের খোয়া ফেলে বেশ কয়েকবার খানাখন্দ ঠিক করে। সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় সেসব স্থান ভেঙে দেবে গেছে। ফলে সড়কটি এখন যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া শুকনা মৌসুমে বালু উড়ে মানুষের চোখে-মুখে লাগে। ফলে এই সড়ক দিয়ে চলতে যাত্রীসাধারণের ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন ওই স্থান থেকে বালু সরিয়ে অন্যত্র নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

কালনা ফেরিঘাট ইজারাদার মঞ্জুরুল আলম বলেন, বালু ব্যবসার কারণে বড় বড় ১০ চাকার ট্রাক কালনা-ভাটিয়াপাড়া সড়কে চলাচল করে। এ কারণে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়।

কাশিয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, এখানে প্রায় ৩৫টি বালুর চাতাল রয়েছে। এসব চাতাল মালিকরা সরকারের কাছ থেকে বালুমহাল ইজারা নিয়ে বালু কেটে এখানে রাখেন। পরে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। এখানে বড় বড় ট্রাক ঢোকার কারণে রাস্তা ভেঙে দেবে গেছে। এর সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খোন্দকার মোহাম্মদ শরিফুল আলম বলেন, ‘সড়কের পাশে বালু ব্যবসার কারণে আমাদের সড়কের প্রায় আধাকিলোমিটার ভেঙে দেবে গেছে। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বালু ব্যবসায়ীরা এলাকায় প্রভাবশালী। এদের বিপক্ষে স্থানীয় সাধারণ মানুষ কিছু বলতে পারে না। সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে সড়কের যে অংশটুকু দেবে গেছে, সেটুকু ঠিক করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা