kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সেই গৃহবধূকে মারধর মাতবরের দুই ছেলের

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে হিল্লা বিয়েতে রাজি না হওয়া সেই গৃহবধূকে এবার বেধড়ক পিটিয়েছেন তিলকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও গ্রামের মাতবর জালাল হোসেনের দুই ছেলে শাকিল ও সোহাগ হোসেন। বিষয়টি পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানানোর কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা এই আক্রমণ চালান। পরে রাতেই তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে আরেক মাতবর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাদেশ আলী হাসপাতালে গিয়ে ওই গৃহবধূকে বাড়ি চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ বলেন, “সোমবার রাতে মাতবর জালাল আমার বাড়িতে এসে ভাঙচুর চালায়। পরে তার দুই ছেলে আমাকে মারধর করে। আর বলে, ‘তুই কথা শুনিসনি, তোকে মেরে ফেলে দিলেও কেউ আমাদের কিছু করতে পারবে না।’ পরে স্থানীয়রা আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেও এসে আরেক মাতবর বাদেশ আমাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বলে। আমি গত সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দেওয়ার জন্য বসে ছিলাম। আজ আমার ওপর নির্যাতনের বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ দেব।”

এ বিষয়ে মাতবর জালাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর ছেলে শাকিল হোসেন দাবি করেন, ‘গত সোমবার সন্ধ্যায় আমরা কেউ ওই মহিলার বাড়ি যাইনি। তাকে কেউ মারধরও করেনি। এটি সাজানো নাটক।’ আক্কেলপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদ বলেন, ‘ওই গৃহবধূ লিখিত অভিযোগ দেওয়ামাত্র তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, নিজেদের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে রাগের মাথায় ‘তালাক’ শব্দটি উচ্চারণ করেন তাঁর স্বামী। বিষয়টি জানতে পারেন গ্রামের মাতবর জালাল হোসেন। এরপর একের পর এক সালিস বসিয়ে ওই গৃহবধূকে হিল্লা বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা