kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দিনাজপুরে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দিনাজপুর শহরের কালিতলায় এইচ কে মাদার কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের অবহেলায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ওই হাসপাতালে রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করলে হট্টগোল শুরু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. হযরত আলী আত্মগোপনে রয়েছেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম মুনতাহীনা পারভীন (২৫)। তিনি সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিরামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের স্ত্রী।

রোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রসব বেদনা উঠলে গত ১৭ অক্টোবর দুপুর ১২টার সময় শহরের কালিতলায় এইচ কে মাদার কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করানো হয় মুনতাহীনা পারভীনকে। একই দিন রাত ১০টায় সিজারের মাধ্যমে মুনতাহীনা এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। ২০ অক্টোবর মুনতাহীনাকে রিলিজ দেওয়া হয়। রোগীর স্বজনরা না চাইলেও এক প্রকার জোর করেই রিলিজ দেওয়া হয় মুনতাহীনাকে। কারণ চুক্তিতে সিজার করা হয়েছিল। পরের দিন ২১ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে পড়লে মুনতাহীনাকে আবারও ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় রোগীর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলছিল ও শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু একাধিকবার বলার পরও প্রসূতির সিজারকারী চিকিৎসক ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. হযরত আলী তাঁকে দেখতে আসেননি। রাত ৮টার সময় মারা যান মুনতাহীনা। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ঢুকে প্রতিবাদ জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

নিহত মুনতাহীনার মামাশ্বশুর আব্দুল জলিল বলেন, ‘চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আমরা এর বিচার দাবি করছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতালের চিকিৎসক তারিফ-উল-ইসলাম বলেন, ‘রোগীকে সুস্থ অবস্থায় রিলিজ দেওয়া হয়েছিল। পরে রোগীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।’

কোতোয়ালি থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম বলেন, ‘হাসপাতালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। নিহতের ঘটনায় আমাদের মৌখিকভাবে জানানো হলেও লিখিত কোনো অভিযোগ করা হয়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা