kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বরাদ্দের অভাবে হচ্ছে না সংস্কার

বন্যার ধকলে পিষ্ট চরবাসী
বসতঘর, কৃষিজমি হারিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরাদ্দের অভাবে হচ্ছে না সংস্কার

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তারাপুরের ঘগোয়া এলাকার তিস্তার বাম তীর থেকে সদরের কামারজানির ডান তীর পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শতাধিক স্থান ধসে গেছে। ছবিটি গতকাল বেলকার ধূমাইটারী এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় চলতি বছরের ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৪১ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকের স্বপ্ন ভাসিয়ে নিয়ে গেছে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা। অভাবনীয় ক্ষতি হয়েছে কৃষিতে। মৎস্য খামারিদের কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও কাঁচা-পাকা সড়কগুলো ধসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মসজিদ-মন্দির, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গুচ্ছগ্রাম, আশ্রয়ণ প্রকল্প ও সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা।

এদিকে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টের সংস্কার ও মেরামতের কাজ। আর ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে বন্যার ধকল কাটিয়ে ওঠা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে চরাঞ্চলবাসীর। তাদের দাবি, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার।

উপজেলা পরিষদের তথ্য মতে, এ উপজেলায় বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে উপজেলা কৃষি দপ্তরে চার কোটি ৮৩ লাখ, স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তরে এক কোটি ৮০ লাখ, মৎস্য দপ্তরে ৪৩ লাখ, মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরে ৫০ লাখ, প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরে ১৮ লাখ ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরে। এ দপ্তরের আওতায় থাকা ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তাঘাট, গুচ্ছগ্রাম, কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও সাইক্লোন শেল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলার ছয় ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বন্যার ক্ষতিগ্রস্তের শিকার। আর ২০ হাজার কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে। সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় চরাঞ্চলের এসব সুবিধাভোগীরা চরম বিপাকে রয়েছে। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সংস্কার, মেরামত, নির্মাণকাজ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় বানভাসি এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। আর বিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থার সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় এখনো চরাঞ্চলের মানুষ নৌকা কিংবা হাঁটু পানি মাড়িয়ে চলাচল করছে।

অন্যদিকে সুন্দরগঞ্জের তারাপুরের ঘগোয়া এলাকার তিস্তার বাম তীর থেকে সদরের কামারজানির ডান তীর পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শতাধিক স্থান ধসে গেছে। এ কারণে ওই সড়কে ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম সরকার লেবু বলেন, ‘গত ২০ বছরের বন্যাকে হার মানিয়েছে এ বন্যা। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেমান আলী বলেন, ‘বরাদ্দ না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা