kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নেত্রকোনা

সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি

নেত্রকোনা-পূর্বধলা সড়ক। ছবি : কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। জেলা সড়ক বিভাগ বলছে, এরই মধ্যে ১০০ কোটিরও বেশি টাকার উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ বলছে, সড়কে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। অন্যদিকে নেত্রকোনা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সদস্যরা বলছেন, সড়ক উন্নয়নকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। উন্নয়নের বেশির ভাগ টাকা যাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের পকেটে। বিশেষ করে টাকা আত্মসাতের তীর নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলমের দিকে।

অভিযোগ রয়েছে, সড়কের কাজে নিম্নমানের মালপত্র কেনা, ঠিকাদারি কাজে শেয়ার থাকা, সংস্কারকাজে নয়ছয়, গণমাধ্যমকে তথ্য না দেওয়াসহ অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোণঠাসা করে রাখেন নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম। তা ছাড়া মোটা অঙ্কের উেকাচের মাধ্যমে অসমাপ্ত ও নিম্নমানের কাজেও ঠিকাদারদের বিল বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনি।

সড়ক উন্নয়নকাজ নিয়ে চরম ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে নেত্রকোনা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান জানান, মদন-খালিয়াজুরীর ডুবন্ত (সাবমারসিবল) সড়ক, নেত্রকোনা-পূর্বধলা সড়ক, নেত্রকোনা-কলমাকান্দা সড়ক, নেত্রকোনা-কেন্দুয়া সড়ক, নেত্রকোনা-ডেউডুকুন-দুর্গাপুর সড়ক, নেত্রকোনা-শ্যামগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়ক বেহাল। দীর্ঘদিন ধরে ওই সব সড়কের সংস্কার হচ্ছে না। ফলে চলাচল করতে গিয়ে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। 

সড়কের কাজে কোনো জবাবদিহি নেই বলে জানা গেছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু নেত্রকোনা সার্কিট হাউসে এক মতবিনিময়সভায় জেলায় প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা, চলাচলে ভোগান্তি, সড়ক বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও সংস্কারকাজে গাফিলতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নেত্রকোনা সড়ক বিভাগের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি উঠে এসেছে হাওরাঞ্চলের মদন থেকে খালিয়াজুরী সাবমারসিবল (ডুবন্ত) সড়কে। ১০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে।

কলমাকান্দা-রামনাথপুর সেতু। ছবি : কালের কণ্ঠ

এ ব্যাপারে খালিয়াজুরীর মেন্দিপুর ইউনিয়নের কলেজ শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, এ সড়কে রাস্তার দুই পাশে ব্লকের কাজ ধরা ছিল। কিন্তু ঠিকাদার ব্লক না বসিয়ে দুই পাশে ঢালাই করে দিয়ে পুরো বিল তুলে নিয়েছেন। নেত্রকোনার রাজুর বাজার থেকে ডেউডুকুন পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কে ওয়ারিংয়ের কাজ বন্ধ আছে। কিন্তু বিল তুলে নেওয়া হয়েছে কাজের অর্ধেক। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের রামনাথপুর সেতুর কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। কিন্তু সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের মাটি সরে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

নেত্রকোনা কৃষক সমিতির সভাপতি খন্দকার আনিসুর রহমান জানান, সড়ক বিভাগের অনিয়মের চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে বহুবার তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু অনিয়ম রোধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রায় চার বছর একই কর্মস্থলে আছেন নেত্রকোনা সড়কের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার। এরই মধ্যে দুজন প্রকৌশলীকে বদলি করিয়েছেন তিনি। তাঁর হাত অনেক লম্বা। তাঁর ভয়ে সড়কের কাজে দুর্নীতির বিষয়ে অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুখ খুলতে সাহস পান না বলে জানান তিনি। 

নেত্রকোনা-ডেউডুকুন-দুর্গাপুর সড়ক।      ছবি : কালের কণ্ঠ

স্থানীয় ঠিকাদার ও সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা সড়ক বিভাগ চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি। এগুলো হচ্ছে রেজভী কনস্ট্রাকশন, ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন, মাইনউদ্দিন বাঁশি ও রানা বিল্ডার্স। এই চার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতীতেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নেত্রকোনা সড়ক বিভাগে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলমান কাজে অনিয়ম, কাজের দীর্ঘসূত্রতা ও জনদুর্ভোগের কারণ জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার বলেন, ‘কিছু অনিয়ম তো হতেই পারে। আপনাকে সব কথা পরে খুলে বলব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা