kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম ট্র্যাজেডি

ভুগছেন বিধবারা

আলী আক্কাছ, গুরুদাসপুর (নাটোর)   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভুগছেন বিধবারা

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার সিধুলী গ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের স্ত্রী মছিরন, নাজিমা, মেহেরা, সনেকা ও হীরা বিবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রেজুর মোড় ট্রাজেডির পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ ওই মহাসড়ক দুর্ঘটনার দিনটি নীরবে চলে গেল এবারও। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সুধীসমাজ কেউই স্মরণ করল না দিনটিকে। খোঁজও নেওয়া হয়নি নিহতদের পরিবারের।

২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার রেজুর মোড় এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়। হতাহতদের মধ্যে বড়াইগ্রামের ১৩ জন, গুরুদাসপুর উপজেলার ২৩ জনসহ অন্যান্য এলাকার দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় গুরুদাসপুরের শুধু সিধুলী গ্রামেরই ১৬ জন নিহত হয়। এর মধ্যে একই পরিবারের সাত ভাইয়ের ছয়জন নিহত ও একজন আহত হয়।

নিহতরা হলো মৃত মফিজ মণ্ডলের ছেলে আতাহার, রায়হান, সোহরাব, রব্বেল, কইর ও ছইর। তাদের একমাত্র আহত ভাই রহম আলী এখনো বেঁচে আছে পঙ্গু অবস্থায়। বর্তমানে তাদের পরিবারের ১৬ জন বিধবার সবাই রসুন কাটা, মাছ ধরা যন্ত্র ইত্যাদি তৈরিসহ দিনমজুরি করে কোনোমতে জীবন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন উদ্যোগ নিলে দিনটিকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির অংশ হিসেবে পালন করা যেত। কারণ দেশের অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ ওই মহাসড়কে ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না। এদিকে রেজুর মোড়ের ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পাঁচ বছরেও হতাহতদের পরিবারগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলেও অনেকেই ওই টাকা দিয়েই নিহত স্বামীর রেখে যাওয়া ঋণ শোধ করেছেন।

স্থানীয় ধারাবারিষা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের ১৬ পরিবারকে এক লাখ করে টাকা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১৬ জন বিধবাকে বিধবা ভাতার কার্ড দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, নিহতরা ছিল দরিদ্র। তারা এক চিলতে জমি চাষ করে কোনোভাবে জীবন কাটাত। বেশির ভাগই ছিল দিনমজুর। এরপরও তাঁদের সংসারে ছিল না সুখের অভাব। কিন্তু রেজুর মোড়ের ওই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা তাদের সুখের সংসার তছনছ করে দেয়।

দুর্ঘটনায় পঙ্গু রহম আলী।    ছবি : কালের কণ্ঠ

নিহতদের স্ত্রীদের মধ্যে হীরা বিবি, সনেকা, মেহেরা, নাছিমা জানান, তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের এক লাখ টাকা ও বিধবা ভাতার কার্ড ছাড়া আর কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাননি।

সিধুলী গ্রামের এলাহী দুলাই, শুকুর আলীসহ স্থানীয়রা জানান, ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার প্রথম দুই বছর নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে আর কোনো খবর রাখা হয়নি প্রশাসন বা কোনো সংগঠন থেকে।

অবশেষে গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে বিষয়টি জেনে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন গত সোমবার বিকেলে নিহত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। সেই সঙ্গে নিহত সোহরাবের স্ত্রী হীরা বিবির ছনের ঘর মেরামতসহ নিহত শরিফের মেয়ে বিথী ও কইরের ছেলে শামীমের পড়াশোনার বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।

নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, নিহতের পরিবারের মধ্যে এখনো যারা দুস্থ আছে, তাদের খোঁজখবর নিয়ে সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা