kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফুলপুরে বাসের চাপায় পিষ্ট সালাউদ্দিন

দুঃস্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন স্ত্রী

স্বামী হত্যার বিচার পাওয়া নিয়ে স্ত্রী পারুলের শঙ্কা

মোস্তফা খান, ফুলপুর (ময়মনসিংহ)   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুঃস্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন স্ত্রী

ময়মনসিংহের ফুলপুরে আলম এশিয়া বাসে পিষ্ট হয়ে নিহত সালাউদ্দিনের স্ত্রী পারুল বৃদ্ধ মাকে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

গত ৯ জুন ময়মনসিংহের ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আলম এশিয়া বাসে করে স্ত্রী পারুল আক্তারকে নিয়ে ঢাকায় নিজ কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন সালাউদ্দিন (৪৫)। যাওয়ার পথে হেলপারের সঙ্গে বাড়তি ভাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয় সালাউদ্দিনের। একপর্যায়ে আলম এশিয়ার চালক রোকন উদ্দিনের নির্দেশে হেলপার ঢাকা-গাজীপুরের মাওনা বাগের বাজার নামক স্থানে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেন সালাউদ্দিনকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ওপর দিয়ে বাস চালিয়ে দেন চালক। স্ত্রীর চোখের সামনেই বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান সালাউদ্দিন।

নিহত সালাউদ্দিনের বাড়ি ঢাকার আলু বাজার এলাকায়। তাঁর বাবার নাম শাহান উদ্দিন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে হেলপার ও চালকের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় চালক ও হেলপারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

জানা যায়, ফুলপুর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে প্রায়ই আসা-যাওয়া করতেন সালাউদ্দিন। নম্র-ভদ্র হিসেবে এলাকায় তাঁর সুনাম রয়েছে। গত সোমবার দুপুরে শিলপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পারুল তাঁর বৃদ্ধ মাকে ওষুধ খাওয়াচ্ছেন। পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন পারুল। জানালেন নিজের কষ্টের কথা। প্রায় ২০ বছর সংসার করেছেন সালাউদ্দিনের সঙ্গে। সংসারজীবনে কোনো সন্তান ছিল না তাঁদের। তবুও কোনো অশান্তি ছিল না তাঁদের মধ্যে।

পারুল বলেন, ‘হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একপাশ অবশ হয়ে গিয়েছিল সালাউদ্দিনের। চিকিৎসা করে অনেকটা সুস্থ হয়। সেদিন হেলপারের ধাক্কায় অসুস্থ শরীর নিয়ে রাস্তা থেকে দ্রুত সরে যেতে পারেননি তিনি। এ সুযোগে ড্রাইভার আমার চোখের সামনেই সালাউদ্দিনের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেয়। স্বামীকে কিভাবে হত্যা করল—তা নিজ চোখে দেখেছি। এমনকি ঘটনার পর আমাকেও ওরা হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু গাড়িতে থাকা লোকজনের কারণে তা পারেনি। এ ঘটনায় আমার বৃদ্ধ মা স্ট্রোক করে বর্তমানে মৃত্যুশয্যায়। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবেও কোনো সহযোগিতা পাইনি। অথচ মারা যাওয়ার পর কত সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তারা আসা-যাওয়া করলেন, কিন্তু কিছুই পেলাম না। এখন এলাকায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে জীবন চলে আমার।’

পারুল আরো জানান, জয়দেবপুর থানায় আলম এশিয়া বাসটি পুলিশ আটক করছিল। গত ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগে মালিকপক্ষ বাসটি নিয়ে যায়।

আলম এশিয়া কর্তৃপক্ষ কোনো আর্থিক সহায়তা করছেন কি না, জানতে চাইলে পারুল জানান, কোনো সাহায্য তো দূরের কথা, এখন আলম এশিয়ার বাসের মালিক ড্রাইভার ও হেলপারকে বাঁচাতে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত স্বামী হত্যার বিচার পাব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা