kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্বাস্থ্য সহকারীর ডাক্তারি

বড়াইগ্রাম

নাটোর প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নাটোরের বড়াইগ্রামের নগর বাজারে রুবেল খান ও মৌসুমী খাতুন নামের এক ভুয়া চিকিৎসক দম্পতির খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। পেশায় মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (স্বাস্থ্য সহকারী) হলেও রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেন তাঁরা। তা ছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি, প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট করাসহ ছোটখাটো অস্ত্রোপচারও করেন।

শুধু তাই নয়, রুবেল নিজেকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক পরিচয় দেন। এ দম্পতির অদক্ষ চিকিৎসায় সম্প্রতি উপজেলার থানাইখাড়া গ্রামের মিলন হোসেনের নবজাতক সন্তান মারা গেছে। এ ছাড়া তাঁদের কাছে চিকিৎসা নিয়ে একাধিক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রুবেল জেলার লালপুর উপজেলার গোপালপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর তিনি ও তাঁর স্ত্রী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) পাস করেন। এরপর কিছুদিন বনপাড়ার একটি ক্লিনিকে কাজ করেছেন। এরপর নগর বাজারে তিনতলা ভবন ভাড়া নিয়ে ওপরতলায় বাসা আর অন্য দুটিতে গড়ে তোলেন গ্রাম-বাংলা প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র। তাঁদের চেম্বারে বসিয়েছেন আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, যা দিয়ে নিজেরাই রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।

নিয়মানুযায়ী শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কথা থাকলেও রীতিমতো ছাপানো প্যাডে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেন তাঁরা। এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপত্র ও খামে রুবেল খান নিজেকে বাত, ব্যথা, মা-শিশু ও মেডিসিনে অভিজ্ঞ এবং তাঁর স্ত্রী মৌসুমী খাতুন গাইনি ও প্রসূতি রোগে অভিজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন। ফেসবুক আইডিতে রুবেল নিজেকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর বিএমএন্ডডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখেছেন ১২৭৮৯। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি জামালপুরের ডা. মাহবুবুল ইসলামের। এভাবে ভুয়া পরিচয় কাজে লাগিয়ে চিকিৎসক না হয়েও প্রতিনিয়ত সাধারণ রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা। পাশাপাশি তাঁদের চিকিৎসায় সুস্থতার পরিবর্তে উল্টো নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে কথা বলতে সরেজমিনে নগর বাজারে গেলে সাংবাদিক আসার খবর পেয়েই চেম্বার বন্ধ করে আত্মগোপন করেন তাঁরা। ভুয়া চিকিৎসকের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা