kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ফুলপুর

খরিয়া নদীতে হচ্ছে পাকা ভবন, দোকান

মোস্তফা খান, ফুলপুর (ময়মনসিংহ)   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খরিয়া নদীতে হচ্ছে পাকা ভবন, দোকান

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার খরিয়া নদী দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে পাকা ঘর। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খরিয়া নদীর পাশ দখল করে তৈরি করা হচ্ছে পাকা ভবনসহ বাড়িঘর, দোকানপাট। এতে নদীটি দিনে দিনে সরু হয়ে খালে পরিণত হচ্ছে। তা ছাড়া ময়লা-পলিথিন ইত্যাদি ফেলার কারণে দিনে দিনে নদীটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে শুকনো মৌসুমে নদীতে চাষাবাদ করা হয়।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খরিয়া ঐতিহাসিক নদী। ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুর, ভাইটকান্দি, ফুলপুর, রূপসী, বালিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার খরিয়া নদীটি সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলায় কংস নদে গিয়ে মিলিত হয়েছে। এটি একসময় বেশ খরস্রোতা ছিল। দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছের সমাহার ছিল নদীর বুকে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের কাছে এর ব্যাপক পরিচিতি ছিল। লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ, পালতোলা নৌকা বয়ে যেত খরিয়া নদী দিয়ে। এলাকার মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম ছিল এই নদী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড ও আমুয়াকান্দা বাজারের ব্যবসায়ীদের পরিত্যক্ত ময়লায় পানি দূষিত হয়ে বর্তমানে নদীটি মাছশূন্য হয়ে পড়েছে। একশ্রেণির প্রভাবশালীরা নদীর পাশ দখল করে গড়ে তুলছে পাকা ভবনসহ বাড়িঘর ও দোকানপাট। অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে নদীর বুকে আমন ধানের চাষ করা হয়। আবার কোথাও কোথাও নদী ভরাট করে পারাপারের জন্য রাস্তা নির্মাণ করে স্থানীয় লোকজন। এ ব্যাপারে প্রশাসনেরও কোনো নজরদারি নেই।

বাংলাদেশ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে। সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়, নদী দখলের সঠিক তথ্য দিলে তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করবে নৌ মন্ত্রণালয়। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, মন্ত্রণালয়ের এমন পদক্ষেপে দখলদারদের হাত থেকে নদী রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। তা ছাড়া নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হলে নদী খননও জরুরি।

গত বছরের ৬ নভেম্বর দৈনিক কালের কণ্ঠে এই নদীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রশাসন এ ব্যাপারে তখন দখলমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণে সরকার নদী খনন ও দখলমুক্ত করার যে তালিকা তৈরি করেছে, তাতেও খরিয়া নদীর নাম নেই।

এ ব্যাপারে নদীপারের বাসিন্দারা জানায়, খরিয়া নদীর পারসংলগ্ন পাশের সব এলাকা দখলদারদের হাতে চলে যাচ্ছে। অবিলম্বে নদীর পাশ দখল মুক্ত না করা হলে নদীটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিব্বির আহম্মেদ লিটন জানান, খরিয়া নদীটি দখল করে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে। অথচ খননের মাধ্যমে নদীপথে যাতায়াতের পথ সুগম করা যেতে পারে। তখন নদীতে প্রচুর মাছ থাকবে। তাতে আমিষের চাহিদা পূরণ হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা